গাংনীতে খ্যাপা শেয়ালের তাণ্ডব: নারী-শিশুসহ আহত অন্তত ১১, একজন কুষ্টিয়ায় স্থানান্তর
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি খ্যাপা শেয়ালের এলোপাতাড়ি হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার হিন্দা ও মাইলমারী গ্রামে এই শেয়ালের আক্রমণের ঘটনা ঘটে। গুরুতর জখম হওয়ায় এক নারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন হিন্দা গ্রামের মোজাম্মেল হকের স্ত্রী বাছিরন (৭৫), ইয়ারুলের স্ত্রী শিউলী খাতুন (৪৮), আক্কাস আলীর ছেলে নূর মোহাম্মদ, রেজাউল ইসলামের স্ত্রী আমিরন নেছা (৫০), আলমগীর হোসেনের স্ত্রী আরশোলা খাতুন (৪৩), ইসরাফিলের ছেলে আতিয়ার (১৬) এবং মাইলমারী গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে আব্দুল খালেকসহ আরও অনেকে।
কবরস্থান থেকে বেরিয়ে হামলা
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে হিন্দা গ্রামের কবরস্থানের ভেতর থেকে হঠাৎ একটি শেয়াল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এরপর সামনে যাকে পেয়েছে, তার ওপরই ঝাঁপিয়ে পড়ে কামড়াতে শুরু করে। শেয়ালটি হিন্দা মাঠপাড়া হয়ে পাশের মাইলমারী গ্রামের দিকে যেতে থাকে এবং পথে নারী-শিশুসহ পথচারীদের ওপর আক্রমণ চালায়। একের পর এক মোট ১১ জনকে কামড়ে রক্তাক্ত করার পর গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে তাড়া দিলে শেয়ালটি মাঠের দিকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় শেয়াল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতালে ভ্যাকসিন সংকট
আক্রান্তদের দ্রুত উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আহতদের কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ইনজেকশন বা ভ্যাকসিনের সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েন রোগীরা। বাধ্য হয়ে বেশ কয়েকজনকে স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
আহতদের মধ্যে হিন্দা গ্রামের আমিরন নেছার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাসেল রানা জানান, আহতদের মধ্যে আমিরন নেছার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

