সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তারইয়েমেনে সংঘাত: বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছাড়াল ৩ লাখওমানে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনবাংলাদেশ সিরিজের পর অবশেষে ফিরলেন ভারতীয়-বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারজন্মদিনে প্রকাশ্যে এলো শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার প্রথম গান৬১ বছরে শাহরুখ, জন্মদিনে ‘মান্নাত’-এর সামনে ভক্তদের ঢলএমপিওভুক্ত কলেজে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলশিশুকন্যাকে হত্যার পর বাবাকে বিষ পান করিয়ে হত্যা: প্রধান আসামির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনঅর্ণবের পর এবার চোখ রাঙাচ্ছে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের
বিজ্ঞাপন

‘ঘুষের টাকা দিয়ে পোশাক লাগিয়েছি, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’ পুলিশ অফিসারের বক্তব্য ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
‘ঘুষের টাকা দিয়ে পোশাক লাগিয়েছি, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’ পুলিশ অফিসারের বক্তব্য ভাইরাল

‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তের কাজে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে যান এএসআই ইলিয়াস হোসাইন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের সামনে তিনি ওই মন্তব্য করেন। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তাঁর বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! কথা বুঝছ না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’

স্থানীয় সূত্র বলছে, রানীগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে সেখানে গিয়েছিলেন এএসআই ইলিয়াস হোসাইন। ওই সময়ই উপস্থিত লোকজনের সামনে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলার তদন্তে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, আর্থিক সুবিধা ছাড়া তিনি অনেক মামলার তদন্তে আগ্রহ দেখান না। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের টেকারঘাট গ্রামে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা একটি মামলার তদন্ত নিয়েও এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলার বিবাদীপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল। তবে এ অভিযোগেরও স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন আরও অভিযোগ করেন, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে নিজের ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে থানায় ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন এএসআই ইলিয়াস হোসাইন। এ অভিযোগের সত্যতাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভাইরাল ভিডিওটির বিষয়ে জানতে এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলামের কাছে ভিডিওটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কোন প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেছেন, তাঁর (এএসআই ইলিয়াস হোসাইন) সঙ্গে বসে বিষয়টি জানার চেষ্টা করব।’

ভিডিওটির বক্তব্যের প্রেক্ষাপট, এর সত্যতা এবং এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...