রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

সারের ডিলারে স্বজন তোষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৭ এএম
সারের ডিলারে স্বজন তোষণ

১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ

১২ অক্টোবর ময়মনসিংহের গৌরীপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মেসার্স মুন্সী এন্টারপ্রাইজের মালিক ও পৌর কৃষক দলের সভাপতি মো. গোলাম কাজীয়েল হাজাত শাহী মুন্সী ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকা লেনদেনের অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতি ডিলার নিয়োগে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার অলিখিত বাণিজ্য হয়েছে। এতে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা জড়িত বলেও দাবি করেন তিনি। শাহী মুন্সীর অভিযোগ, লটারিতে প্রথম স্থান পেয়েও তিনি ডিলারশিপ পাননি।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এক ফেসবুক পোস্টে প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি লেখেন, ‘কে কোথা থেকে কত পার্সেন্ট টাকা নেয়, তা আমি জানি। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হবেন, আর অর্থের বিনিময়ে সার ডিলারশিপ দেওয়া হবে—এমনটা হতে পারে না।’

বিশেষজ্ঞের অভিমত ও সতর্কবার্তা

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আছে, ফলে এই দলের অনেক লোক ডিলারশিপ পাবে, এটাই এ দেশের স্বাভাবিক ঘটনা। তবে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তি ও কৃষি কর্মকর্তাদের স্বজন পরিচয়ে ডিলারশিপ পাওয়া অস্বাভাবিক। অনিয়মের মাধ্যমে যারা ডিলারশিপ পেয়েছে, সরকার চাইলে তাদের পরিবর্তন করতে পারে। কারণ যারা টাকা দিয়ে ডিলারশিপ পেয়েছে, তারা বাড়তি দামে সার বিক্রি করে সেটা পুষিয়ে নিতে চাইবে। মাঠপর্যায়ে সরকারের তদারকি বাড়াতে হবে। অনিয়ম বন্ধে কঠোর হতে হবে।’

সরকারি কর্মকর্তার ভাষ্য

সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম। গতকাল সোমবার রাতে তিনি বলেন, ‘শতভাগ নীতিমালার আলোকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে জেলা-উপজেলা কমিটির বাছাইপ্রক্রিয়াকে। ফলে সারা দেশে সার সরবরাহব্যবস্থায় কোনো সংকট হবে না।’

ডিএই মহাপরিচালক বলেন, কোথাও যদি ত্রুটিবিচ্যুতি হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া ডিলার নিয়োগ অস্থায়ী ভিত্তিতে হয়েছে। অনিয়ম পেলে বাতিল করা হবে।

মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধির বক্তব্য

গতকাল কৃষি মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, শর্ত অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ পরিবর্তন করা যাবে।

আর অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সভাপতি সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘যেসব এলাকায় ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এসেছে, সেসব ক্ষেত্রে নিয়োগ স্থগিত রাখার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।’

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ও রাজশাহী; এবং যশোর, কুড়িগ্রাম, মৌলভীবাজার, চাঁদপুর, বগুড়া, সাতক্ষীরা, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি)]

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...