সাতজনকে গুমে অভিযুক্ত সাবেক র্যাব কর্মকর্তার প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি টাকার কাজ দিল ডিএনসিসি

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ সাতজনকে গুম করার ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক র্যাব কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) কিসমৎ হায়াতের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গুম সংক্রান্ত কমিশনের তদন্তে আলোচিত ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়ার পাশাপাশি তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তির বিষয়টিও সামনে এসেছে। অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার প্রতিষ্ঠান ‘কমব্যাক্ট ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং’কেই উন্নয়নকাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালে সুমন নিখোঁজ হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রদল নেতাসহ মোট সাতজন গুমের শিকার হন। দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেওয়া ওই ঘটনার পর বিচার চেয়ে এবং নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানের দাবিতে মাঠে নামেন সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি। তিনি গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে একত্র করে গড়ে তোলেন ‘মায়ের ডাক’ নামের সংগঠন। বছরের পর বছর ধরে স্বজনদের পরিণতি জানার আশায় আন্দোলন চালিয়ে গেলেও বিচার মেলেনি। এসব পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই অভিযোগ তোলা হচ্ছিল র্যাবের বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হওয়ার পর গঠিত গুম কমিশনের অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সুমনসহ সাতজনকে তুলে নেওয়ার পেছনে তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তা কিসমৎ হায়াৎ সরাসরি জড়িত ছিলেন। এমনকি এ ঘটনায় তিনি স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন। সেই কর্মকর্তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এবার কোটি টাকার কাজ দিল নগর কর্তৃপক্ষ।
চুয়াডাঙ্গা ডট নেটের অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট গুলশান-২ এলাকার ট্রাফিক সিগন্যাল সংস্কার ও তা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় কমব্যাক্ট ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিংকে। ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দের এই কাজের মেয়াদ এক বছর বলা হলেও চুক্তির সময়সীমা দেখানো হয়েছে চলতি বছরের ২৭ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মূল শেয়ারহোল্ডার হলেন র্যাব-১-এর সাবেক পরিচালক কিসমৎ হায়াৎ নিজেই।

