বন্ধুকে হত্যা করে আইফোন চুরি, বিক্রি করেন ৯ হাজার টাকায়

প্রায় ৫০ হাজার টাকা দামের আইফোন ১১-এর লোভে বন্ধুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাহেল মিয়া (২২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। হত্যার পর ফোনটি মাত্র ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। নিখোঁজের ছয় দিন পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি জলাশয় থেকে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা তারেক মিয়ার (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত তারেকের বাবা মারফত উল্লাহ বাদী হয়ে লাখাই থানায় হত্যা মামলা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত তারেক মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌশতপুর গ্রামের মারফত উল্লাহর ছেলে। অভিযুক্ত সাহেল মিয়া একই গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ২১ অক্টোবর নির্মাণকাজে যোগ দিতে তারেক ও সাহেল নবীগঞ্জ থেকে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে যান। সেখানে সুরের রহমান নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনে তারা কাজ করতেন। এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ২৪ অক্টোবর তারেকের পরিবারের পক্ষ থেকে নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জিডির তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তারেক ও সাহেলের যোগাযোগের তথ্য যাচাই করে পুলিশ। একপর্যায়ে সাহেলের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু হয়। পুলিশের ভাষ্য, সাহেল বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে কুমিল্লায় কাজ করছেন বলে জানান। তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নবীগঞ্জের পানিউমদা এলাকায় শনাক্ত হয়। তার বক্তব্যের সঙ্গে অবস্থানের অসংগতি থাকায় পুলিশের সন্দেহ হয়।
মঙ্গলবার রাতে চৌশতপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরলে নবীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত তালুকদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সাহেলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে তিনি তারেককে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ।

