রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

উত্থান থেকে মৃত্যুদণ্ড, কুষ্টিয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
উত্থান থেকে মৃত্যুদণ্ড, কুষ্টিয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন হানিফ

কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল এশিয়া পোস্টকে বলেন, দীর্ঘদিন কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে মাহবুব উল আলম হানিফ ও তার ঘনিষ্ঠদের একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। তাদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগী ও বিরোধী মতের নেতাকর্মী কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। সাধারণ মানুষও অনেকসময় ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেননি। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ যেন মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনীতিতে প্রতিহিংসা নয়, আইনের শাসন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হওয়া উচিত।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, মানুষ অতীত থেকে শিক্ষা নেয় না। ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতার দাপটে তারা সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম নির্যাতন চালিয়েছে। তারা ভেবেছিল তারা চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে।

মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড রায়ে কুষ্টিয়া শহরের বাসিন্দা নাসিমা খাতুন বলেন, রাজনীতি মানুষের জন্য হওয়া উচিত। কিন্তু ক্ষমতার কারণে মানুষ যদি ভয় পায়, মামলা-হামলার আশঙ্কায় কথা বলতে না পারে, তাহলে সেটি কোনোভাবেই ভালো রাজনীতি নয়। হানিফ ও আতার সময়ে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমরা শুনেছি এবং দেখেছি। আজকের রায়ে মানুষের মধ্যে স্বস্তি এসেছে। আমরা চাই, ভবিষ্যতে কেউ যেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে না পারে।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার এশিয়া পোস্টকে বলেন, মাহবুব উল আলম হানিফ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়ার মানুষ রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা ও হয়রানির অভিযোগ করে আসছিলেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষ তার ক্ষমতার বলয়ের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। আজকের রায়ের মাধ্যমে মানুষের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা মনে করি, ফ্যাসিবাদী শাসন ও মানুষের ওপর অত্যাচার-নিপীড়নের বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির জেলা শাখার সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা এশিয়া পোস্টকে বলেন, এই রায়ের বিষয়ে আমাদের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট। যারা আসামি, তারা বর্তমানে দেশের বাইরে পলাতক রয়েছেন। সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে এই রায় কার্যকর করলেই আমরা সন্তোষ প্রকাশ করব। এর আগে সন্তোষ প্রকাশ করার মতো কিছু আছে বলে আমরা মনে করি না।

চব্বিশের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ার শহীদ ইউসুফ শেখের মেয়ে মোছা সীমা এশিয়া পোস্টকে বলেন, সরকারের কাছে আবেদন, তারা যেন ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করেন। রায় হয়ে আমরা খুব খুশি। যারা দেশের বাইরে ও দেশের ভেতরে পলাতক রয়েছে, তাদেরকে যেন আইনের আওতায় এনে সঠিক শাস্তি দেওয়া হয়।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...