বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
ইরান যুদ্ধে শিগগির সুখবর নেই, সুবিধা পাবে ইউক্রেনলুট করা স্বর্ণের ভাগভাগি নিয়ে যুবদল নেতাকে হত্যা, চুক্তি ২০ লাখেজামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাতহাসিনাকে সমর্থনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে: এইচআরডব্লিউরিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংকনির্বাচনে দল পরাজিত হওয়ায় ট্রাম্পের শুল্ক ও অভিবাসন নীতির কী হবেকুষ্টিয়ায় এনসিপি নেতার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরাপ্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় ছাত্রলীগ নেতা হাবিবনিহত শ্রমিক তৌফিকের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষেরচুল দ্রুত লম্বা ও মজবুত করার ১৪ উপায়
বিজ্ঞাপন

বন্ধের নির্দেশের পরও সরেনি সুন্দরবন সংলগ্ন রিসোর্ট, পরিদর্শনে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
বন্ধের নির্দেশের পরও সরেনি সুন্দরবন সংলগ্ন রিসোর্ট, পরিদর্শনে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

এর আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকা এবং পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার ২৪টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। এর মধ্যে খুলনার দাকোপে ১৮টি, বাগেরহাটে দুটি এবং সাতক্ষীরায় চারটি রিসোর্ট রয়েছে। নির্দেশনায় কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে ১৫ দিন এবং কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে ৩০ দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়। তবে নির্দেশনার পরও সংশ্লিষ্ট রিসোর্টগুলোর স্থাপনা অপসারণের বিষয়টি এখনো দৃশ্যমান হয়নি।

গত ৪ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকায় গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্টের মালিকদের চিঠি দেন। এতে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযোগ, রিসোর্টগুলোতে পর্যটকদের ব্যবহৃত খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিক ও পলিথিনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। কোথাও পয়োনিষ্কাশনের বর্জ্য সরাসরি নদীর পানিতে মিশছে। এ ছাড়া রিসোর্ট নির্মাণের সময় গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশগত ছাড়পত্রও নেই।

অধিদপ্তরের তালিকায় থাকা খুলনার ১৮টি রিসোর্ট হলো অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ি, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোল কানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, রিসোর্টগুলো এখনো চালু রয়েছে, কোনোটি বন্ধ করা হয়নি। আজ পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী এসব রিসোর্ট পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করবেন। তাদের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) খুলনা জেলার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার এশিয়া পোস্টকে বলেন, শুধু রিসোর্ট উচ্ছেদ করলেই সুন্দরবন রক্ষা করা সম্ভব নয়। বনভূমি সংরক্ষণ, পুনর্বনায়ন, খাল পুনঃখনন, জলাধার রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণে সরকার দায়বদ্ধ। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর আওতায় সুন্দরবনের চারপাশের ১০ কিলোমিটার এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছে। এ এলাকায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

বাবুল হাওলাদার আরও বলেন, সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় শুধু স্থাপনা অপসারণ নয়, বনের ভেতর ও আশপাশে সব ধরনের দূষণ এবং পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনেও সুন্দরবনের প্রাণিকুল রক্ষার বিধান রয়েছে। সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের শব্দ বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই সুন্দরবন রক্ষায় পর্যটন ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. নাজিয়া হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পানি ও মাটিদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং পর্যটকদের বাড়তি চাপ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। বনে গিয়ে উচ্চ স্বরে গান-বাজনা করলে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ ও আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শুধু অভিযান চালিয়ে স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। পরবর্তী সময়ে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে উচ্ছেদ করা জায়গা আবারও দখল হয়ে যেতে পারে। এ জন্য বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তদারকি প্রয়োজন।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...