ইতিহাদে ফোডেনের হ্যাটট্রিকে সিটির বড় জয়, তবে ফাঁকা ছিল ২১ হাজার আসন

চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে ফিল ফোডেনের চোখধাঁধানো হ্যাটট্রিকে গ্রিক ক্লাব এইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে ঘরের মাঠে দলের এমন দাপুটে জয়ের রাতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। প্রায় ৬১ হাজার আসন ক্ষমতার এই ভেন্যুতে খেলা দেখতে আসেননি প্রায় ২১ হাজার দর্শক। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ইতিহাদে বিপুলসংখ্যক আসন শূন্য থাকার ঘটনাটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে টুর্নামেন্টের লিগ পর্বের তৃতীয় রাউন্ডের এই ম্যাচে ইতিহাদে উপস্থিতি ছিল কেবল ৪০ হাজার ৪২ জন দর্শক। অথচ গত ১৪ অক্টোবর পিএসজির বিপক্ষে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে এই মাঠেই দর্শক ছিলেন ৬০ হাজার ২১ জন। এমনকি গত শনিবার প্রিমিয়ার লিগে ইপসউইচ টাউনের মুখোমুখি হওয়ার দিনও মাঠের দর্শকসংখ্যা ছাড়িয়েছিল ৬০ হাজার ৮১৭। অর্থাৎ মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ঘরের মাঠে সিটির ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকের সংখ্যা কমেছে ২০ হাজারের বেশি।
চলতি মৌসুমে অবশ্য ইতিহাদে এটাই সর্বনিম্ন দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড নয়। গত মাসে লিগ কাপের এক ম্যাচে নরউইচ সিটির বিপক্ষে মাঠে এসেছিলেন প্রায় ৩২ হাজার দর্শক। তবে ওই ম্যাচটি বাদ দিলে এই মৌসুমে ঘরের মাঠে সিটির প্রতিটি ম্যাচেই ৬০ হাজারের বেশি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সেই হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে গ্যালারির বড় একটি অংশ ফাঁকা পড়ে থাকা বেশ অস্বাভাবিক।
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ক্লাবের বিরুদ্ধে রায় আসার পর সমর্থকেরা যেখানে মাঠে এসে সোচ্চার ভূমিকায় ছিলেন, ঠিক তখনই এমন দর্শকখরা দেখা গেল। ক্লাবের পক্ষ থেকে অবশ্য ওই রায়ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আপিল করা হয়েছে। পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচের আগেও মাঠজুড়ে আতশবাজি ফুটিয়ে এবং সাফল্যের ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে সিটি নিজেদের শক্তি ও অবস্থান তুলে ধরেছিল। তবে মঙ্গলবার দর্শক কম হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইতিহাদে টানা তিনটি ম্যাচ থাকায় অতিরিক্ত ম্যাচসূচির কারণেও উপস্থিতি কম হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন। অন্যদিকে বড় ব্যবধানে হারলেও পুরো সময়জুড়ে নিজ দলকে গ্যালারি থেকে সমর্থন দিয়ে গেছেন সফরকারী এইকে এথেন্সের ভক্তরা।
গ্যালারির এই উপস্থিতি নিয়ে ম্যাচ শেষে ম্যানসিটি কোচ এনজো মারেস্কা বলেন, ‘আমার মনে হয়, যারা মাঠে এসেছিলেন, তাঁরা ভালোভাবেই দলকে সমর্থন দিয়েছেন। ইপসউইচের বিপক্ষে আগের ম্যাচে পরিবেশ ছিল দুর্দান্ত। আগামী সপ্তাহে ব্রাইটনের বিপক্ষে আমাদের ঘরের মাঠে দুটি ম্যাচ আছে। আমার কোনো সন্দেহ নেই, তখন আবারও দারুণ পরিবেশ থাকবে।’
দর্শক কম হলেও মাঠে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেয়নি স্বাগতিক দল। ম্যাচের দ্বাদশ মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন। এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে নিশানা ভেদ করেন তিনি। এরপর ৩৪তম মিনিটে রিকো লুইসের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফিল ফোডেন, যিনি পরবর্তীতে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে সিটির বড় জয় নিশ্চিত করেন।

