সালমান খানের সঙ্গে কাজের জের, টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টার দায় স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে বন্দুক হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছে ভারতের কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। সুপারস্টার সালমান খানের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের নির্দেশ অমান্য করার কারণেই অভিনেতাকে টার্গেট করা হয়েছে বলে দাবি করেছে চক্রটি। এদিকে ঘটনার পরপরই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার।
ঘটনা চলাকালীন ধারণ করা ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গুলিতে টাইগার শ্রফের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ফিরদৌস রক্তাক্ত ও আহত হওয়ার পর অভিনেতা তাৎক্ষণিকভাবে নিজের জীবন বাঁচাতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে যাত্রীর আসন থেকে দ্রুত চালকের আসনে চলে যান। এ সময় উপস্থিত লোকজনকে আতঙ্কিত হয়ে হিন্দিতে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘বহুত গলত হো গয়া ইয়ে!’ যার অর্থ দাঁড়ায়, ‘এ তো ভীষণ খারাপ কিছু ঘটে গেল!’
হামলার পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তায় লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের পক্ষ থেকে দায় নেওয়ার দাবি করা হয়। নিজেকে ওই চক্রের সদস্য হিসেবে দাবি করে অনিল পণ্ডিত নামের এক ব্যক্তি অডিওতে জানান, টাইগার শ্রফ বর্তমানে তাদের ‘হিট লিস্টে’ রয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, টাইগার তাদের নির্দেশ শুনছেন না এবং সালমান খানের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করে চলেছেন।
সালমান-ঘনিষ্ঠদের ওপর ধারাবাহিক আক্রোশ
গুজরাটের একটি কারাগারে বন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই দীর্ঘদিন ধরেই সালমান খানকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের মামলায় জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মূলত বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন সালমান। সেই আক্রোশ থেকেই বিষ্ণোই গ্যাং সালমানের পাশাপাশি তার বলয়ের ঘনিষ্ঠজন ও সহযোগীদেরও একের পর এক হুমকি ও হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে চলেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী ও এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিককে। সালমান খানের সঙ্গে গভীর সখ্য থাকার কারণেই ওই প্রভাবশালী রাজনীতিককে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছিল বিষ্ণোই গ্যাং।

