যুদ্ধের খেসারত হেরে দিলেন ট্রাম্প, ইরান ইস্যুতে এবার হাঁটবেন কোন পথে

পর্দার আড়ালে কী ঘটছে
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভ্যান্স ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের মধ্যে এমন একটি পক্ষের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যারা যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়ে আসছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ব্যক্তিগত আলোচনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইরান-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়ে ভ্যান্স তাঁকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেছেন, ‘সবকিছু নিয়েই তিনি ভুল করছেন।’
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ভ্যান্স সতর্ক করেছিলেন, যুদ্ধটি অত্যন্ত অজনপ্রিয় এবং এর কারণে নির্বাচনে রিপাবলিকানরা পরাজিত হতে পারে। ট্রাম্পের আশপাশে থাকা অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও ভ্যান্সের সঙ্গে একমত ছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ট্রাম্প যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার দিকেই বেশি ঝুঁকেছিলেন।
একপর্যায়ে নেতানিয়াহুর চাপের মুখে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করেছিলেন ট্রাম্প। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তবে তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে গত সপ্তাহে ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানান।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সম্ভাব্য প্রস্তুতি শেষ করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এ লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা পাঠানো হচ্ছে।
একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে একটি খসড়া চুক্তিতে সম্মত করানোর চেষ্টা করছেন। এর উদ্দেশ্য হলো, দুই দেশের মধ্যে আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়া ঠেকানো এবং সম্ভব হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু করা। আঞ্চলিক সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
নির্বাচনের আগে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, নির্বাচনে ট্রাম্প পরাজিত হলে তিনি কী করবেন। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সবাইকে বলেছিলাম, নির্বাচনে আমাদের ফলাফল কী হয়, তা আগে দেখতে চাই।’

