কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনদের হারিয়ে নিঃস্ব চুয়াডাঙ্গার নুর আলম

আনন্দভ্রমণের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে গিয়ে রিসোর্টের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী, একমাত্র সন্তান ও চার শ্যালক-শ্যালিকাসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়েছেন নুর আলম। চাকরির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করছেন। আনন্দময় সেই অবকাশযাপনই এক নিমেষে তাঁর জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ এক ট্র্যাজেডি হয়ে।
নুর আলমের আদি বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলায়। তবে পেশাগত কারণে তিনি গত আট বছর ধরে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ফারিহা কবির ও ছেলে ফায়িজান আহম্মেদকে নিয়ে বাস করছিলেন। তিনি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গায় মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত আছেন।
আনন্দভ্রমণ রূপ নিল ট্র্যাজেডিতে
মুঠোফোনে নুর আলম জানান, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) তিনি স্ত্রী ফারিহা কবির, সাত বছর বয়সী ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তবে দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে পরিবারের অন্য সদস্যদের সেখানে রেখে শুক্রবার একাই চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন তিনি। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার বাকিদেরও ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে ওই রিসোর্টে লাগা প্রাণঘাতী আগুনে তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও চার স্বজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর দুঃসংবাদ পান তিনি। এমন খবরে স্তব্ধ হয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
ভাঙা গলায় নুর আলম বলেন, “আজ তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। কীভাবে আগুন লাগল জানি না। আমার স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছে। এর বেশি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।”
তাঁদের একমাত্র সন্তান সাত বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ভাড়া বাসায় শুধুই শূন্যতা
শনিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, নুর আলমের ভাড়া নেওয়া তৃতীয় তলার বাসাটিতে তালা ঝুলছে। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে আট বছর ধরে যে নীড় তিনি গড়ে তুলেছিলেন, আজ তা একেবারেই নিস্তব্ধ।
বাড়ির মালিক হারুন আর রশিদ জানান, “নুর আলম প্রায় আট বছর ধরে আমার বাড়ির তৃতীয় তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকেন। তাঁরা খুবই ভালো মানুষ। ঘটনা শোনার পর তিনি ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।”
শনিবার সকালে যে বাসায় প্রিয়জনদের ফিরে আসার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই শূন্যতা আর শোকের ছায়া। চোখের পলকে পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়ে নির্বাক ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নুর আলম।

