সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

মাতৃহীন শৈশব ও দারিদ্র্য জয় করে সামিয়ার জিপিএ-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

অভাব-অনটনের সংসার আর মাত্র আট বছর বয়সে মা হারানোর ক্ষত—কোনো প্রতিকূলতাই দমিয়ে রাখতে পারেনি চুয়াডাঙ্গার অদম্য তরুণী সামিয়া আক্তারকে। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়ে সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। এর আগে এসএসসি পরীক্ষাতেও একই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল এই মেধাবী শিক্ষার্থী।

সামিয়া চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের হুচুকপাড়া গ্রামের দিনমজুর সাজেদুর রহমানের মেয়ে। সে চুয়াডাঙ্গা আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। মেয়ের এই অসাধারণ সাফল্যে পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি গোটা এলাকায় খুশির আমেজ বিরাজ করছে।

বাবার লড়াই ও সৎমায়ের আত্মত্যাগ

সামিয়ার বয়স যখন আট বছর, তখন মারা যান মা জোছনা আক্তার যুথি। সেই থেকে অভাবের সংসারের হাল ধরে দিনমজুরি করে মেয়েকে পড়ালেখা করান বাবা সাজেদুর রহমান। তিনি চুয়াডাঙ্গা ডট নেটকে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় সামিয়ার প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। এসএসসিতে ভালো ফলের পর অনেক কষ্টে ওকে আদর্শ মহিলা কলেজে ভর্তি করাই। দিনমজুরি করলেও স্বপ্ন দেখি মেয়ে একদিন বড় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। দারিদ্র্য যাতে ওর পড়াশোনা থামিয়ে না দেয়, সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।”

সামিয়াকে বড় করে তোলার পেছনে তার সৎমা আঙ্গুরা খাতুনের অবদান অসামান্য। মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে নিজের মাতৃত্বের স্বাদও ত্যাগ করেছেন তিনি। আঙ্গুরা খাতুন বলেন, “সামিয়া আমার পেটের সন্তান না হলেও কোনো দিন পর ভাবিনি। ওকে কোলে তুলে নেওয়ার পরই নিজের কোনো সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। মা হিসেবে সর্বোচ্চ ভালোবাসা আর যত্ন দিয়ে ওকে মানুষ করার চেষ্টা করেছি। আজ ওর ফলাফলে বুকটা ভরে গেছে। সামিয়া যেন মানুষের মতো মানুষ হয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সেটাই আমার চাওয়া।”

কৃতজ্ঞতায় সামিয়া

নিজের সাফল্যের পেছনে পরিবারের ত্যাগ আর শিক্ষকদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে সামিয়া আক্তার বলে, “মায়ের মৃত্যুর পর বাবার আর্থিক টানাটানি দেখে একসময় ভেবেছিলাম আর পড়ালেখা হবে না। তবে বাবা আর আমার বর্তমান মা আমাকে কখনো সাহস হারাতে দেননি। শত কষ্টের মধ্যেও তাঁরা পাশে থেকেছেন বলেই আজ আমি এই জায়গায়।”

পড়াশোনায় অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য আদর্শ মহিলা কলেজের প্রভাষক রুবেল হোসেন ও রুমানা খাতুনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সামিয়া। সেই সঙ্গে ঝোড়াঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর রশিদ লাল্টু স্যারের অবদানের কথাও তুলে ধরে সে। প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে সামিয়ার এখন লক্ষ্য ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করা এবং ভবিষ্যতে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করা।

আঞ্চলিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...