শৈলকুপায় সুপারি পাড়া নিয়ে বিরোধে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সুপারি পাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে মজিবুল খাঁ (৫০) নামের এক কৃষকের প্রাণ গেছে। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের ব্রম্মপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মজিবুল ওই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ছোট ভাই রবিউল খাঁ পালিয়ে গেলেও পুলিশ তার স্ত্রী নাজমা বেগমকে হেফাজতে নিয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে মজিবুলের ছেলে বাড়ির গাছ থেকে কয়েকটি সুপারি পাড়ে। বিষয়টি নিয়ে ছোট ভাই রবিউল ও বড় ভাই মজিবুলের পরিবারের মধ্যে দিনভর বচসা চলে। শনিবারও একই বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। একপর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে উভয় পরিবারের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় ছোট ভাই রবিউলের লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে মারা যান বড় ভাই মজিবুল খাঁ।
ব্রম্মপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সামছুল ইসলাম জানান, সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার থেকেই দুই ভাইয়ের পরিবারের বিরোধ চলছিল। শনিবার বিকেলে সংঘর্ষ বাধলে রবিউলের লাঠির আঘাতে মজিবুল প্রাণ হারান।
তবে রবিউলের স্ত্রী নাজমা বেগমের দাবি ভিন্ন। আটক হওয়ার আগে তিনি বলেন, তার ভাসুর মজিবুল খাঁ দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতি চলার একপর্যায়ে অসুস্থ বড় ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্যা বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতেই বড় ভাই মজিবুলের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত রবিউলকে ধরতে অভিযান চলছে এবং তার স্ত্রীকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

