রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

চুয়াডাঙ্গায় ১৪০ ক্লিনিকে নেই পরিবেশ ছাড়পত্র, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও হাসপাতাল পরিচ্ছন্নতায় কঠোর নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
চুয়াডাঙ্গায় ১৪০ ক্লিনিকে নেই পরিবেশ ছাড়পত্র, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও হাসপাতাল পরিচ্ছন্নতায় কঠোর নির্দেশনা

চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকানো, জেলা সদর হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণ, সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কেটে ফেলা এবং রেলওয়ে আন্ডারপাসের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ১৮৪টি বেসরকারি ক্লিনিকের মধ্যে ১৪০টিরই পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকার গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে।

রোববার সকাল দশটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নিয়মিত সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক উজ জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে বিগত সভার কার্যবিবরণী তুলে ধরেন সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী।

সভায় পরিবেশ সংক্রান্ত পর্যালোচনায় উঠে আসে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় পরিচালিত ১৮৪টি ক্লিনিকের মধ্যে ১৪০টিই চলছে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া। এখন পর্যন্ত ৫৬টি প্রতিষ্ঠান ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে এবং অনুমোদন মিলেছে ৪৪টির। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করে তা দিয়ে জৈব সার উৎপাদনে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসেবা

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, সম্প্রতি জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় পৌরসভার ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মশক নিধন অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। বাসাবাড়ির ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা ডাবের খোসায় যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে, সেদিকে কড়া নজর দিয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো তাগিদ দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে হবে এবং জমে থাকা বর্জ্য দ্রুত সরাতে হবে। তিনি জানান, বর্তমানে সদর হাসপাতালে মাত্র একজন সরকারি ও চারজন বেসরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। তবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে নতুন করে ৫৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

জলাবদ্ধতা ও সড়ক নিরাপত্তা

জনদুর্ভোগ কমাতে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে আন্ডারপাসে বৃষ্টির পানি জমে থাকার সমস্যা দ্রুত সমাধানের সিদ্ধান্ত হয় সভায়। পাশাপাশি যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ও দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত কেটে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করতে সরকারি দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন।

এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি এবং দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

আঞ্চলিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...