উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করার তাগিদ: চুয়াডাঙ্গায় জেলা এনজিও সভা

চুয়াডাঙ্গার সার্বিক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা এনজিও সমন্বয় সভায় এ তাগিদ দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার। সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে এনজিওগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রয়াস জরুরি। তবে যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজের মূল শর্ত হলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গুণগত মান বজায় রাখা। একই এলাকায় একাধিক সংস্থা কাজ করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তনে উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে যৌথ উদ্যোগ
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত এবং তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি এনজিওগুলোকে কেবল প্রকল্প বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ করে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বচ্ছতা ও মাঠপর্যায়ের জবাবদিহি
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি. এম. তারিক উজ জামান বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও কার্যকর করতে এনজিওগুলোর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জেলা প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক অবহিত রাখতে হবে। প্রকল্পের সঠিক নিয়মনীতি মানা, আর্থিক বিষয়ের স্বচ্ছতা রক্ষা ও অর্জিত ফলাফলের সঠিক মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি জনস্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা চুয়াডাঙ্গায় তাঁদের চলমান প্রকল্প, অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, কৃষি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে। এসব উদ্যোগ আরও ফলপ্রসূ করতে জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহায়তা কামনা করেন তাঁরা।
সভায় বক্তব্য রাখেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক জহীর রায়হান, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী মানিক ম্যাক্সিমিয়ন রুগা এবং প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সমন্বয়কারী সাইদুর রহমান। এতে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

