জীবননগরে সেনা হেফাজতে ডাবলুর মৃত্যু: তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করল সিআইডি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তের অংশ হিসেবে সংস্থাটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করেছেন।
বুধবার সকাল নয়টার দিকে সিআইডির খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল জীবননগরে পৌঁছায়। দলটি ডাবলুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার স্থানসহ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখে এবং উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আলামত সংগ্রহ করে।
সিআইডির এই পরিদর্শনকালে নিহত ডাবলুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর পৌর বিএনপির সহসভাপতি তাজুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন ইকবাল ঠান্ডু, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দীন ময়েন এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হযরত আলী।
যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা
গত ১২ জানুয়ারি রাতে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে হেফাজতে নেয় চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা যায়।
ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই রাতেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস পেয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গায় পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তে ডাবলুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের দাগ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তকারী দলের চিকিৎসক ডা. এহসানুল হক তন্ময় জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লিখিত আঘাতের চিহ্নের সঙ্গে মরদেহে পাওয়া আঘাতের পুরোপুরি মিল রয়েছে।
আদালতে মামলা ও পরিবারের দাবি
ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর, গত ১৯ জুন আদালতে নয়জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় চুয়াডাঙ্গা আর্মি ক্যাম্পের তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদকে ১ নম্বর এবং ক্যাপ্টেন সৌমিককে ২ নম্বর আসামিসহ মোট নয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
স্বামীর মৃত্যুর সঠিক বিচার চেয়ে ডাবলুর স্ত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার তিনটি মাসুম সন্তানকে এতিম করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই।’
মামলা দায়েরের পর তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এই পরিদর্শনকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

