বিশ্বমঞ্চে দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরতে ৫১ দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কূটনীতি: চুয়াডাঙ্গায় সংস্কৃতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের হাজার বছরের সমৃদ্ধ শিল্প ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে ৫১টি দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কূটনীতি জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি তৃণমূলের শেকড়ের গান ছড়িয়ে দিতে দেশজুড়ে বাউল উৎসব আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি এসব কথা জানান। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।
বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, নজরুল বর্ষ ঘোষণার পর থেকেই সরকার শিল্প ও সংস্কৃতির প্রসারে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজস্ব কৃষ্টির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটানো হচ্ছে। হাজার বছরের ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মেলে ধরতে সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণের পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের নিজস্ব লোকসংগীত, ভাটিয়ালি এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ জনপদের হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলা—দাড়িয়াবান্দা, হাডুডু, কাবাডি ও লাঠিখেলাকে নতুন করে মাঠে ফেরানোর উদ্যোগ চলছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গ্রামীণ সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত হবে। সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক অনুপ্রেরণা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার সংস্কৃতিকর্মীরা জেলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, সম্ভাবনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। চর্চাকেন্দ্রের উন্নয়ন এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা চেয়ে সভা শেষে মন্ত্রীর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার ও জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন।
এ ছাড়া জেলা জাসাসের সভাপতি শহীদুল হক বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, নাট্য সংগঠন অরিন্দম, উদীচী, সংলাপ, কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি সংসদ ও আলমডাঙ্গা কলাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠনের সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নিয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক বিকাশ ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।

