আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির নির্বাচন: টানা তৃতীয়বার সভাপতি মিলন, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন

উৎসবমুখর পরিবেশে আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে নিজের জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টানা তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন আরেফিন মিয়া মিলন। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আলাউদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন বেলাল হুসাইন। দিনভর শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল প্রকাশ করা হলে বিজয়ী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।
শীর্ষ পদগুলোর ভোটের লড়াই
নির্বাচনে সভাপতি পদে ছাতা প্রতীক নিয়ে আরেফিন মিয়া মিলন ৬৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাফিজুর রহমান দোয়াত-কলম প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩৩ ভোট। সহ-সভাপতি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ইফতেকার আহমেদ ও হাজি রফিকুল ইসলাম।
সাধারণ সম্পাদক পদে আনারস প্রতীকে ৫৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আলাউদ্দিন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাইসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৫০৩ ভোট। সহ-সাধারণ সম্পাদকের দুটি পদে বিজয়ী হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম (গোলাপ ফুল, ৪৬৬ ভোট) ও সাইদুল ইসলাম (টিউবওয়েল, ৪১৯ ভোট)। এ পদে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম বাঘ প্রতীকে ৩৩৩, রেজাউল করিম হাবিল ডাব প্রতীকে ৩১১ এবং বদর উদ্দিন হাঁস প্রতীকে ৩০৭ ভোট পান।
কোষাধ্যক্ষ পদে মোরগ প্রতীক নিয়ে ৬০৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন বেলাল হুসাইন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী রেজাউল করিম রেজা হাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৪৬৬ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সর্বোচ্চ ৭২১ ভোট পেয়ে চেয়ার প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন রাশিদুল ইসলাম; তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইদুল ইসলাম বুড্ডু মই প্রতীকে পান ২৯৯ ভোট।
অন্যান্য পদের ফলাফল ও সদস্য তালিকা
ধর্ম সম্পাদক পদে পানির বোতল প্রতীকে ৪১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আনিসুর রহমান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রেজাউল করিম কাবিল মিনার প্রতীকে ৩৩৬ ও জাহিদুল ইসলাম পাঞ্জাবি প্রতীকে ৩১৬ ভোট পান। ক্রীড়া সম্পাদক পদে ফুটবল প্রতীকে ৬৬১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মাসুদ রানা মাসুম, যেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শামীম রেজা আম প্রতীকে পান ৩৯১ ভোট। এছাড়া দপ্তর সম্পাদক পদে কলম প্রতীকে ৬৭৭ ভোট পেয়ে অ্যাডভোকেট শফিউল হাসান মিলন বিজয়ী হন; তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সঞ্জু আহমেদ টিয়া প্রতীকে পেয়েছেন ৩৪৮ ভোট।
সাধারণ সদস্য পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় ১০ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন—আব্দুল ওহাব কাবলু, আব্দুস সাত্তার মিয়া, আব্দুর রব, আল আমিন, গোলাম মোস্তফা, জয়নাল আবেদীন ক্যাপ, এইচ এম মোয়াজ্জেম, রেজাউল হক তোতা, রাশেদ কায়সার তুহিন ও খোন্দকার সজিব।
ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ভোট চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তার জোয়ার্দ্দার, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জেলা জামায়াতের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলতাফ হোসেন, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি শেখ নুর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ইউসুফ আলী মাস্টার এবং সেক্রেটারি মামুন রেজাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
নির্বাচন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল কেন্দ্রজুড়ে দায়িত্ব পালন করে। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন এসআই আমিনুর রহমান, এসআই তাইজুল ইসলাম, এসআই নাসির উদ্দিন মোল্লা ও এএসআই শরিফুল ইসলাম।
নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম। সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন এমএস জোহা কলেজের সহকারী অধ্যাপক এ কে এম ফারুক এবং প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান। নির্বাচন কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, “সকলের সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।” তিনি ভোটার, প্রার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

