সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, পুলিশ-বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়ায় ছত্রভঙ্গ৪ শিক্ষক মিলেও পাস করাতে পারেননি এক শিক্ষার্থীকেসীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে আপসহীন অবস্থান: মহেশপুর ব্যাটালিয়নের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনঅবশেষে বাইকের সামনে নম্বরপ্লেট বসানোর জটিলতা দূর হলোস্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ইডিসিএলের ‘বিতর্কিত’ কর্মকর্তা শামীমকে বদলিহবিগঞ্জে পিকআপ-কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে শ্রমিক নিহতগাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ: ১৫০ কারখানা ছুটি ঘোষণামাদক কারবারের অভিযোগে বাড়িতে হামলা-লুটপাট, মামলার পর ফের হামলাচেষ্টামাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজেই ইতিহাস গড়ল নামিবিয়াটাকা দিয়েও মেলেনি চেয়ারম্যানের পদ, সচিবসহ ৬ জনের নাম ফাঁস
বিজ্ঞাপন

হিজলগাড়ী গ্রোথ সেন্টার মার্কেট নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগ, কাজ বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ এএম
হিজলগাড়ী গ্রোথ সেন্টার মার্কেট নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগ, কাজ বন্ধ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হিজলগাড়ী বাজারে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রোথ সেন্টার মার্কেট নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের বাধার মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে পশ্চিমাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক করিডর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন কর্মসূচি—উইকেয়ারের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় বহুমুখী শেড, মাছের বাজার শেড, মাংস ও পোলট্রি শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে।

বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইট, বালু, সিমেন্টসহ বিভিন্ন উপকরণের মান নির্ধারিত সিডিউলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিডিউলে উল্লেখিত মান না মেনে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ তাদের।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজারের লোকজন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। তাদের দাবি, অনুমোদিত নকশা ও সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ শেষ করতে হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে ভবিষ্যতে এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

হিজলগাড়ী বাজার আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি আমিরুল ইসলাম বলেন, “সরকারের টাকা মানে আমাদের টাকা। জনগণের টাকায় নিম্নমানের কাজ হতে পারে না। কাজে যে ইট, সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর মান খুবই নিম্নমানের। আমাদের দাবি, সিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে হবে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হিজলগাড়ী বাজারে একটি আধুনিক গ্রোথ সেন্টার মার্কেট নির্মাণের প্রত্যাশা ছিল। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ হলে বাজারের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নত হবে বলে আশা করেছিলেন তারা। তবে নির্মাণকাজের শুরুতেই উপকরণের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠায় তারা হতাশ।

তাদের দাবি, পুনরায় নির্মাণকাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও এলজিইডি কর্মকর্তাদের সরেজমিনে এসে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কাজও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী জাকাউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রকৌশলী সাব্বির উল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সিডিউলে যেভাবে মালামালের বর্ণনা দেওয়া আছে, তার বাইরে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সিডিউল অনুযায়ীই কাজ করতে হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিডিউল ও নকশা অনুযায়ী টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের নিশ্চয়তা চান তারা।

চুয়াডাঙ্গা সদর থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...