রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
তফসিলের আগেই নেহালপুরে ভোটের হাওয়া: পাড়া-মহল্লা ছাপিয়ে ফেসবুকে সরব সম্ভাব্য প্রার্থীরাসাত দফা মেনে নিলে, এক দফার প্রয়োজন হবে না: সমাপনী বক্তব্যে জামায়াত আমিরযশোরে অস্ট্রেলীয় নাগরিকের ব্যাগ ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগে যুবক আটকনেহালপুর ইউপি নির্বাচন: তফসিলের আগেই মাঠ ও ফেসবুকে সরব প্রার্থীরারেস্টুরেন্টে তাহসিফ-দীপের সঙ্গে থাকা সেই নারী কে, কী ঘটেছিল টঙ্গীর বস্তিতেপল্টনে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহতসিআইডির সাবেক প্রধানের গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক গুরুতর আহতকেশবপুরে ধানখেতের আইলের পাশের ড্রেনে দুই নারী-পুরুষের মরদেহচীন বিতর্কে মরিনহোর সমর্থন পেলেন এমবাপ্পেস্পেনে লুটপাটের আশঙ্কায় শপিং মল-দোকানের কাচ ঢেকে দিলেন ব্যবসায়ীরা
বিজ্ঞাপন

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়াই বড় সংস্কার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়াই বড় সংস্কার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কারের লক্ষ্য হতে হবে সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও ভালো করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নয়ন থেকে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ উপকৃত হতে পারেন। তবে কোন উদ্যোগে কত মানুষ সরাসরি সুবিধা পাবে, তা বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ সফল করতে সবার সহযোগিতা দরকার। দেশের গণতান্ত্রিক মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ জন্য ধৈর্য, পরিশ্রম ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবাসীদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি।

প্রবাসীদের প্রশ্নের জবাব

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানি ভাষা শিক্ষা, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের বিকাশ, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী মো. নিলয়সহ কয়েকজন প্রবাসী ও শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

জ্বালানি, আইসিটি ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগে জেবিআইসির সঙ্গে আলোচনা

এর আগে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকোর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন বিধিবিধান সংস্কার ও সহজীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জেবিআইসির অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার জন্য জাপানের এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার অনুরোধ জানানো হয়। জেবিআইসির গভর্নর প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার কথা জানিয়েছেন বলে জানান উপপ্রেস সচিব।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানো এবং বড় উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে জেবিআইসির সঙ্গে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে এ ধরনের সহযোগিতা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তৈরি পোশাকে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোকে আহ্বান

এদিকে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় একই হোটেলে ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও সিইও তাদাশি ইয়ানাইয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে আরও বিনিয়োগের জন্য ইউনিক্লোকে আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে ম্যান-মেড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তু, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং টেকসই পোশাক উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বাংলাদেশের প্রতি ইউনিক্লোর আস্থা এবং ফাস্ট রিটেইলিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন তারেক রহমান।

বৈঠকে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যে উদ্ভাবন, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে ইউনিক্লোর কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে জমির ব্যবস্থা, বিনিয়োগের অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও সরকারের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন ধরে দেশের রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান খাত। প্রচলিত তুলাভিত্তিক পোশাকের পাশাপাশি কৃত্রিম তন্তু, উচ্চপ্রযুক্তির কাপড় এবং পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইউনিক্লোর সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারিত হলে প্রযুক্তি, উৎপাদন দক্ষতা ও টেকসই শিল্পব্যবস্থার বিকাশেও সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাপানি প্রতিনিধিদলে ফাস্ট রিটেইলিংয়ের পরিচালক তাকেশি ওকাজাকি এবং গ্রুপ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ইয়োশিহিরো কুনিই উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং জাপানের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরে একদিকে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার, অন্যদিকে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...