যে ছোট সুরা ১০ বার পড়লে জান্নাতে ঘরের মালিক হওয়া যায়

হাদিসে আছে, মহানবী (সা.) একবার বলেছেন, ‘তোমরা জমায়েত হও, আমি তোমাদের সামনে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করব। ফলে যাদের পক্ষে সম্ভব তারা জমায়েত হলো। এরপর রাসুল (সা.) বের হয়ে এলেন এবং তেলাওয়াত করে আবার ঘরে গেলেন।’ তখন আমাদের একজন অন্যজনকে বলতে লাগল, ‘মনে হয় আসমান থেকে (এখনই) কোনো সংবাদ এসেছে আর সেজন্যই তিনি ঘরে প্রবেশ করেছেন।’ পরে রাসুল (সা.) বের হয়ে এসে বললেন, আমি তোমাদের বলেছিলাম যে, তোমাদের সামনে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করব। শোনো, সুরা ইখলাস কোরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮১২)

সুরা ইখলাস অসামান্য মূল্যবান হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, এই সুরায় আল্লাহর গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে একটি মুজাহিদ দলের প্রধান করে জিহাদে পাঠালেন। তিনি নামাজের ইমামতিতে সুরা ইখলাস দিয়ে নামাজ শেষ করতেন। মুজাহিদরা সেই অভিযান থেকে ফিরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমতে বিষয়টি আলোচনা করলে তিনি বললেন, ‘তাকেই জিজ্ঞাসা করো কেন সে এই কাজ করেছে।’ এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিলেন, এ সুরায় আল্লাহ তাআলার গুণাবলি রয়েছে। আর তাই এ সুরা তেলাওয়াত আমার বড় পছন্দ।’ তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাআলাও তাকে পছন্দ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৬)
সুরা ইখলাসের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
আয়াত: ১
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
উচ্চারণ: কুল হুয়াল্লাহু আহাদ।
অর্থ: বলো, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়।
আয়াত: ২
اللَّهُ الصَّمَدُ
উচ্চারণ: আল্লাহুস সামাদ।
অর্থ: আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন।
আয়াত: ৩
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
উচ্চারণ: লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ।
অর্থ: তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি।
আয়াত: ৪
وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ: ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।
অর্থ: আর তাঁর কোনো সমকক্ষও নেই।

