শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

প্রতিটি জেলা-উপজেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ এএম
প্রতিটি জেলা-উপজেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সরকারের

দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ক্রমে একটি করে প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যাও বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আয়োজিত প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৮৫টি প্রতিবন্ধী স্কুল চালু রয়েছে। সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কাজ করছে। শুধু স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক সমান সুযোগ পাবে এবং কোনো মানুষ পিছিয়ে থাকবে না।

আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শুধু সামাজিক সুরক্ষার আওতায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য নয়। তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেও বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের অভিভাবকদের বিষয়েও সরকারের ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক বাবা-মা সন্তানকে দেখাশোনা করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারেন না। তাঁদের জন্য ঘরে বসে কিংবা উপযোগী পরিবেশে কাজ করে আয় করার সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি জানান, অতীতে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট (এনডিডি) থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হলেও বর্তমানে সেই বরাদ্দ বাড়িয়ে ১১ কোটি টাকা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানান। তাঁদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে ৯২ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বিশেষ অনুদানের চেক তুলে দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান (দুলাল), পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...