দুর্গাপূজায় দেশজুড়ে এসআরবির কড়া নিরাপত্তা: মাঠে সাড়ে ৬ হাজার সদস্য, জোরদার টহল

শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দেশব্যাপী সমন্বিত ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে বাহিনীটির ১৫টি ব্যাটালিয়নের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার সদস্য প্রতিদিন মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি সাড়ে ৫০০ পিকআপ ও সাড়ে ৪০০ মোটরসাইকেলের সমন্বয়ে দৃশ্যমান টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সার্বিক এই নিরাপত্তা প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন এসআরবির মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এসআরবি প্রধান বলেন, ‘শনিবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবির পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, পূজা উপলক্ষে সারা দেশে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রতিদিন সাড়ে ৬ হাজার সদস্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ ও জনবহুল স্থানগুলোতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়তি নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এসআরবির ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপসহ সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নিবিড় সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে স্পেশাল ফোর্স টিম এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক রিজার্ভ সদস্য। বিশেষ করে প্রতিমা বিসর্জনের দিন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে এসআরবি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি ব্যাটালিয়নের নিজস্ব কন্ট্রোল রুম থেকে স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসআরবি সদরদপ্তরের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে ঢাকাসহ সমগ্র দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিনরাত পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হচ্ছে।
এ ছাড়া স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলো সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে আনা হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো দুষ্কৃতকারী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা অপ্রীতিকর ঘটনার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাহিনীটি।

