সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

নিষেধাজ্ঞা শেষে বন্দরে মা ইলিশবোঝাই ট্রলার, প্রশ্নের মুখে নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
নিষেধাজ্ঞা শেষে বন্দরে মা ইলিশবোঝাই ট্রলার, প্রশ্নের মুখে নজরদারি

মা ইলিশ রক্ষায় টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর পটুয়াখালীর আলিপুর মৎস্য বন্দরে মাছবোঝাই একের পর এক ট্রলার ভিড়েছে। এসব ট্রলারে প্রচুর মা ইলিশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। তাদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কিছু ট্রলার সাগরে মাছ শিকার করেছে। এতে সরকারি নির্দেশনা মেনে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে মা ইলিশ সংরক্ষণে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে আলিপুর মৎস্য বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, সাগর থেকে মাছবোঝাই একের পর এক ফিশিং ট্রলার বন্দরে ফিরছে। ট্রলারগুলোতে প্রচুর মা ইলিশ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মা ইলিশবোঝাই এসব ট্রলার রাত ১২টার পরপরই শিববাড়িয়া চ্যানেলে নোঙর করে। পরে সকালে মাছগুলো আলিপুর মৎস্য বন্দরের আড়তে বিক্রির জন্য নেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে এসব ট্রলার কীভাবে সাগরে মাছ শিকার করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ফিশিং ট্রলার থেকে মা ইলিশ উঠানো হচ্ছে। ছবি : এশিয়া পোস্ট
ফিশিং ট্রলার থেকে মা ইলিশ উঠানো হচ্ছে। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নিষেধাজ্ঞা মেনে টানা ২২ দিন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের অভিযোগ, তারা সরকারি নির্দেশনা পালন করলেও এ সময়ে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা পাননি। অন্যদিকে, কিছু জেলে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ শিকার করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

জেলে বারেক হাং বলেন, ‘আমরা সরকারি নিয়ম মেনে ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ রেখেছি। কিন্তু এই সময়ে অনেক ট্রলার সাগরে মাছ ধরেছে। আমরা নিয়ম মেনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, আর যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে, তারা এখন মাছ বিক্রি করে লাভবান হয়েছে।’

আরেক জেলে সত্তার মাঝি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় নদী ও সাগরে প্রশাসনের নজরদারি আরও কঠোর হওয়া দরকার ছিল। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা মাছ ধরেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তার মতো নিয়ম মেনে চলা জেলেরা একসময় উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন।

আলিপুর মৎস্য বন্দরে রাখা মা ইলিশ। ছবি : এশিয়া পোস্ট
আলিপুর মৎস্য বন্দরে রাখা মা ইলিশ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

আলিপুর বন্দরে মাছ নিয়ে আসা একটি ফিশিং ট্রলারের জেলে কামরুল বলেন, ‘আমরা পেটের দায়ে মাছ ধরতে গেছি। গত ১৫ দিন সাগরে ছিলাম। আজ সকালে মাছ নিয়ে আলিপুর বন্দরে এসেছি। এখানে আড়তে মাছ বিক্রি করব।’

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...