ঠাকুরগাঁওয়ে ছয় দিনে চার মরদেহ উদ্ধার, তিনজনের মৃত্যুতে ঋণের চাপের তথ্য

গত শনিবার ভূল্লী থানার ছোট বালিয়া বানিয়াপাড়া এলাকা থেকে রাজ কুমার চন্দ্র বর্মন (৫৬) নামের এক দিনমজুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর ছেলে রতন চন্দ্র বর্মনের ভাষ্য, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে কাজ করতে না পারায় ওষুধ কেনা ও সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হতো তাঁকে। অভাব ও অসুস্থতার কারণে হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। ঘটনার দিন সকালে তাঁর স্ত্রী খাবার দিয়ে মন্দিরে যান। পরে বাড়িতে ফিরে শয়নকক্ষে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
এ ছাড়া গতকাল রোববার ভূল্লী থানার কচুবাড়ী কাজীপাড়া এলাকা থেকে নারগীস আক্তার (৩৯) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের ভাষ্য, নারগীস ২০১৫ সাল থেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। ২০১৬ সালেও তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। গতকাল সকালে বাড়িতে ফিরে শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় নারগীসকে ঝুলতে দেখেন তিনি।
চারটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা তাঁদের আবেদনে মৃত্যুর বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ বা সন্দেহের কথা জানাননি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পুলিশের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও সহকারী উপপরিদর্শক ফরিদুজ্জামান বলেন, প্রতিটি অপমৃত্যুর ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঋণের বোঝা, এনজিওর কিস্তি পরিশোধের চাপ ও আর্থিক হতাশা এসব মর্মান্তিক মৃত্যুর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

