‘এত ঋণ কীভাবে শোধ করিমো, মেয়ের স্বর্ণই-বা কীভাবে দিমো’

অশোক চন্দ্র রায় এলাকায় ঘুরে ঘুরে নারকেল ও খেজুরগাছের ডাল কাটেন। বিভিন্ন বাগানে কীটনাশক প্রয়োগের কাজ করেও সংসার চালান। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের তিন-চার বছর আগে বিয়ে হয়েছে। ছেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকেন। ছেলের বিয়ের জন্য কিছু জমি কিনে বাড়ি করার স্বপ্ন ছিল অশোকের। বাবার কাছ থেকে পাওয়া মাত্র দুই শতক জমির ওপরই ছিল তাঁদের বসতবাড়ি।

অশোক চন্দ্র রায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাপের কাছ থেকে দুই শতক জমি পাইছি। এইটুকু জমির ওপর কষ্ট করে বাড়ি করছি। ছেলে ঢাকায় থাকে। ছেলে বড় হয়েছে, বিয়ে দিতে হবে। এ জন্য মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর কয়েক বছর ধরে কিস্তি নিয়ে, একটু একটু করে এলাকায় ঘুরে কাজকাম করে কিছু টাকা জমাইছিলাম। ভাবছিলাম, কিছু জমি কিনে বাড়ি করব, ছেলেকে বিয়ে দেব। কিন্তু আগুনে সব শেষ হয়ে গেল।’ কিছুদিন আগেও কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা তুলেছি সেখানেও এখন ৩০ হাজার টাকা পাবে।
মেয়ের বিয়ের সময় ধারদেনা করে প্রায় দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দিয়েছিলেন অশোক। মেয়ের সন্তান হওয়ার সময় সেই স্বর্ণালংকার মায়ের কাছে রেখে গিয়েছিলেন। আগুনে সেগুলোও পুড়ে গেছে। এ বিষয়ে অশোক বলেন, ‘মেয়ের বিয়ে হয়েছে তিন-চার বছর আগে। তখন ধারদেনা করে প্রায় দুই লাখ টাকার স্বর্ণ দিয়েছিলাম। মেয়ের বাচ্চা হওয়ার সময় সেই স্বর্ণগুলো ওর মা অর্থাৎ আমার স্ত্রীর কাছে রেখে গিয়েছিল। সেগুলোও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিছুই বাঁচাতে পারি নাই।’

