বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিতে আইসিসির সেরাদের তালিকায় বাংলাদেশের মোস্তারিএনসিপি ছাড়ার ৪ কারণ জানালেন সামান্তা শারমিনহৃদরোগীদের সুস্থতায় পুনর্বাসন মডেল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীসভাপতি পদ না পেয়ে কলেজ অধ্যক্ষকে মারধর করলেন বিএনপি নেতারাফের বাড়ল জেট ফুয়েলের দামঅধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা, ক্যাম্পাসে উত্তেজনাসাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চিকিৎসাসেবা দেবে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালবসতবাড়ির দেয়ালে ‘ফিরছি ডিসেম্বরে’ স্লোগান, তদন্তে স্কুলছাত্রীদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশরোনালদোকে এভাবে বিদায় দিতে রাজি নয় পর্তুগাল, চায় বিশেষ সংবর্ধনাপরিদর্শক থেকে এএসপি হলেন ৭৮ পুলিশ কর্মকর্তা
বিজ্ঞাপন

সংঘর্ষে একজন নিহতের পর তিন দিন ধরে ৪০ বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
সংঘর্ষে একজন নিহতের পর তিন দিন ধরে ৪০ বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ

নিজগাঁও গ্রামের মৃত উমর আলীর স্ত্রী মিনারা বেগম বলেন, রাতে এসে ঘরের দরজা খোলার জন্য অনেক লাথি মেরেছে। ঘরের বেড়ায় লাথি মেরেছে, গালাগাল করেছে। কিন্তু ভয়ে আমরা দরজা খুলিনি। ঘরের বাইরে আমার দুই ছেলের দুটি মেশিন, চারটি গরু ও একটি নৌকা ছিল। সেগুলো নিয়ে গেছে।

মাসুম মিয়ার স্ত্রী মোছা. আসমিনা বেগম বলেন, বাড়িঘরের সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। তিন দিনের লুটপাটে আমরা এখন পথের ফকিরের মতো হয়ে গেছি। ৪০০ মণ ধান, ২০ মণ চাল, তিন ভরি সোনা, ১৭টি গরু, নগদ পাঁচ লাখ টাকা, ফ্রিজ, পানি তোলার মোটর, মোটরসাইকেল, ট্রলি, ধান ভাঙানোর মেশিনসহ ঘরে যা ছিল, সব নিয়ে গেছে। আমরা এখন চলব কীভাবে?

রেজু মিয়ার স্ত্রী তানিয়া আক্তার বলেন, আমার ও আমার শাশুড়ির খাট-পালঙ্ক, আলমারি, ঘরের সব জিনিসপত্র, হাঁড়িপাতিল, ধান-চাল, জমিতে পানি দেওয়ার পাম্প লুট করে নিয়ে গেছে। রান্নার সব চুলা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। ঘরে রান্না করার মতো কিছুই নেই।

আহাদ নুর মিয়ার স্ত্রী লিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কোনো বাড়িতেই পুরুষ মানুষ নেই। ফাঁকা বাড়ি থেকে গরু-বাছুর, ধান-চাল সব নিয়ে গেছে। এখন পানি খাওয়ার একটি গ্লাসও নেই। ৫০ কিয়ার জমির খড় ছিল, গভীর রাতে আগুন দিয়ে সেগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশের ভয়ে বাড়িছাড়া গ্রামের এলিম উদ্দিন। লুটপাটের খবর পেয়ে তার ছোট বোন মাহমুদা আক্তার ভাইয়ের বাড়ি দেখতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, এমন ঘটনা জীবনে দেখিনি। ফাঁকা বাড়িতে নারীদের গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। আব্দুল মান্নান মারা যাওয়ার পর রুপ মিয়ার লোকজন আমাদের পক্ষের প্রায় ৪০টি বাড়ির কোনো কিছুই বাকি রাখেনি।

তবে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহত আব্দুল মান্নানের চাচাতো ভাই রুপ মিয়া। তিনি বলেন, জমিটি আমার বাবার নামে। আমি সেখানে মাটি ভরাটও করেছি। এখন আজব আলী এই জায়গা তার বলে দাবি করছেন। আজব আলীর লোকজনের হামলায় আমার ভাই আব্দুল মান্নান মারা গেছেন। এ ঘটনায় ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন। আমার বাঁ পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। আমি বিছানা থেকে উঠতে পারি না।

লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে রুপ মিয়া আরও বলেন, আমাদের কেউ প্রতিপক্ষের বাড়িঘর লুটপাট করেনি। অন্যের জিনিসপত্র আনতে সবাইকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তারা নিজেরাই আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে মালামাল সরিয়ে আমাদের অভিযুক্ত করছে। পুলিশকে আমরা জানিয়েছি, যারাই এসবের সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, সংঘর্ষের পর রাতে নিজগাঁও গ্রামে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, এটি সত্য। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তিনি জানেন না। একটি বাড়ির বিশাল খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়েছে। অনেকেই তাকে জানিয়েছেন, ধান-চাল, পাওয়ার টিলার ও ইঞ্জিন লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সুহেল বলেন, সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর নিজগাঁও গ্রামে পুলিশ পৌঁছানোর আগে কিছু ঘটনা ঘটেছে। এখন গ্রামের বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে শোনা যাচ্ছে। গ্রামের সবার বাড়িঘরে পুলিশের পক্ষে যাওয়া কঠিন। তবে পুলিশ এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...