বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

নারী সেজে প্রেম-ব্ল্যাকমেইল, প্রেমের অভিনয় করে প্রতারক ধরল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
নারী সেজে প্রেম-ব্ল্যাকমেইল, প্রেমের অভিনয় করে প্রতারক ধরল পুলিশ

ফেসবুকের প্রোফাইলে কখনও ‘সায়রা আক্তার’, কখনও ‘সুমাইয়া আক্তার’, আবার কখনও ‘আরিফা আক্তার’। প্রোফাইলে তরুণীর ছবি, মেসেঞ্জারে মিষ্টি কথার জাল আর কথোপকথনে প্রেমের আবেগ। এভাবেই নারী পরিচয়ে একের পর এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন শামীম ইসলাম নামে এক যুবক। অভিযোগ রয়েছে, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্ধশতাধিক যুবকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়তে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের কৌশলী ফাঁদে ধরা পড়েছেন শামীম।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে মাদারীপুর পৌর শহরের ডিসির ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, আটক শামীম মোল্লা মাগুরা সদর উপজেলার আমুড়িয়া গ্রামের সাইম মোল্লার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুরের ডিসির ব্রিজ এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। ভুয়া নারী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন তিনি।

যেভাবে ধরা পড়লেন শামীম

পরিচিত কয়েকজনের কাছ থেকে প্রতারণার বিষয়টি শোনার পর শামীমের সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগ করেন পুলিশ সদস্য সুমন আহমেদ। শামীম নিজেকে সুমাইয়া পরিচয় দিয়েছিলেন। প্রায় তিন মাস মেসেঞ্জারে নিয়মিত শামীমের সঙ্গে কথোপকথন হয় পুলিশ সদস্যের। পরে তার কথাবার্তা ও আচরণে অসংগতি দেখে তিনি অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে জানতে পারেন, নারী পরিচয়ের আড়ালে থাকা ব্যক্তিটি আসলেই একজন পুরুষ। এরপর তার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে কৌশলে সরাসরি দেখা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদারীপুর শহরের ডিসির ব্রিজ এলাকায় উপস্থিত হলে পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় শামীমকে আটক করা হয়।

তাকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর একে একে সামনে আসতে শুরু করেন কথিত প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা। তাদের অভিযোগ, কখনও সানজিদা, কখনও আরিফা, আবার কখনও সুমাইয়া পরিচয়ে ফেসবুকে যোগাযোগ করতেন শামীম। প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে প্রেমের সম্পর্ক এবং একপর্যায়ে নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করতেন। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যক্তিগত কথোপকথন ও ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও উঠেছে।

ভুক্তভোগী রাকিব খান বলেন, শামীম প্রথমে আমার কাছে সানজিদা নাম পরিচয় দিয়ে প্রেমের অভিনয় করে। এভাবে আমার কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। পরে দেখা করতে চাইলে আজ নয়, কাল—এভাবে বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে যেত। সন্দেহ হওয়ায় ছবি চাইলে প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন মেয়ের ছবি দিত। ফোনে কথা বলতে চাইত না, শুধু এসএমএস করত। আমি এই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

আরেক ভুক্তভোগী আসাদুল খান, যিনি উপজেলার রাজৈর টেকেরহাট এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছেন, তার অভিযোগ, শামীম ‘আরিফা আক্তার’ পরিচয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে ব্ল্যাকমেইল করে তার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া ইমাম হোসেন নামে একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, স্থানীয় ব্যবসায়ী রিয়াজ আহমেদ ও কবির হোসেনসহ আরও অনেকে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এমনকি ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

পুলিশ সদস্য সুমন আহমেদ বলেন, পরিচিত কয়েকজনের কাছ থেকে বিষয়টি শোনার পর আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি নিজেকে সুমাইয়া পরিচয় দিয়েছিলেন। প্রায় তিন মাস তার সঙ্গে কথা বলেছি। কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হওয়ায় বুঝতে পারি, তিনি নারী নন, একজন পুরুষ। পরে দেখা করার কথা বলে মাদারীপুরের ডিসির ব্রিজ এলাকায় ডেকে আনা হয়। এরপর তাকে আটক করা হয়।

মাদারীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সালমান বলেন, শামীমকে আটক করতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কৌশল অবলম্বন করছিলাম। তিনি পুরুষ হয়েও নারীর পরিচয়ে একাধিক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের ব্ল্যাকমেইল করে টাকা-পয়সা আত্মসাতের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার তাকে আটক করা হয়েছে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...