ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইলেও আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না: সুরঞ্জন ঘোষ

১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি ভারতে বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সুরঞ্জন ঘোষ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের সরকার গঠন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নিরাপত্তাবিষয়ক সিদ্ধান্তে ভারতের হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংয়ের সঙ্গে জাতীয় পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের আলোচনাকে এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁরা বন্ধুত্ব চান, অসম সম্পর্ক নয়; সহযোগিতা চান, আধিপত্য নয়। বন্ধুত্বের ঘোষণা বাস্তব আচরণেও প্রতিফলিত হতে হবে।
ভারতের সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সুরঞ্জন ঘোষ। তিনি বলেন, মণিপুরে চলমান জাতিগত সংঘাতে বহু মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় স্থাপনা ও বসতবাড়িতে হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক।
একইভাবে দলিত, মুসলিম, খ্রিষ্টান ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এ সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
ভারতের নাগরিক অধিকারকর্মী ওমর খালিদের দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও কারাবাস নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। প্রত্যেক অভিযুক্তের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

