বাংলাদেশে ফুটবলের উন্নয়নে নতুন বিনিয়োগের আশ্বাস ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর

ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় মাত্র দুই ঘণ্টার যাত্রাবিরতিতেই দেশের ফুটবলের জন্য বড় আশার বার্তা দিয়ে গেলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার এই শীর্ষ ব্যক্তিত্ব জানিয়েছেন, বাংলাদেশে নারী ও পুরুষ ফুটবলের অগ্রগতি, তৃণমূল ও স্কুল পর্যায়ের বিস্তার এবং অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে আরও অর্থায়ন করবে ফিফা।
মরক্কো সফর শেষে রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ইনফান্তিনো। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালসহ ফেডারেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর ভবনেই আয়োজিত সংক্ষিপ্ত এক বৈঠকে বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতি ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের ফুটবলের প্রতি গভীর আবেগের প্রশংসা করে ফিফা সভাপতি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে আসতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। এখানে সবাই ফুটবল ভালোবাসে। বিমান থেকে নামার পর প্রথম মুহূর্ত থেকেই মানুষের সঙ্গে কথা বলে সেই ভালোবাসা অনুভব করা যায়। বিষয়টি অসাধারণ।’
নতুন নেতৃত্বের প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাফুফের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সঠিক রূপরেখা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এ দেশের ফুটবল বহুদূর এগোবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
ফিফা প্রধানের ভাষায়, ‘বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও তার দল বাংলাদেশের ফুটবলকে পরের ধাপে নিতে দারুণ কাজ করছেন। বাংলাদেশের মানুষের এটাই প্রাপ্য। ছেলেদের ও মেয়েদের ফুটবল, স্কুল, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণকেন্দ্রসহ অনেক প্রকল্প ও বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি এবং বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করব।’
মাঠ ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র নিয়ে বাফুফের ভাবনা
বৈঠকের বিষয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানান, ফিফার আর্থিক তহবিলের সহায়তায় দেশের ফুটবলের কাঠামো ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি চলছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজারে একটি সর্বাধুনিক জাতীয় প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরি, সিলেটে উন্নত প্রযুক্তির হাইব্রিড মাঠ প্রস্তুত করা এবং পুরোনো দুটি স্টেডিয়াম পুরোপুরি সংস্কারের উদ্যোগ রয়েছে তাদের পরিকল্পনায়।
ফিফার 'ফরোয়ার্ড কর্মসূচির' অধীনে বরাদ্দ পাওয়া অর্থের একটি বড় অঙ্ক এতদিন অব্যবহৃত রেখে দিয়েছিল বাফুফে। তাবিথ আউয়াল আশা প্রকাশ করেছেন, চলতি বছরের ভেতরেই সেই অমীমাংসিত অর্থ কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত প্রকল্পগুলোর কাজ দৃশ্যমান করা সম্ভব হবে। তবে রবিবারের এই ঝটিকা সফরে নতুন করে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্কের তহবিল ঘোষণা কিংবা তাৎক্ষণিক প্রকল্প ছাড়ের বিষয়টি আসেনি।

