রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
ডিএমপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও নিউজ পোর্টাল ‘হ্যাকড’!রাশেদ খাঁনের পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা রাজনৈতিক আচরণ নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকিংবদন্তিদের গল্প নিয়ে বিটিভির নতুন অনুষ্ঠানফ্রান্সজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ২০ সিজনে শেষ হচ্ছে ‘ক্রিমিনাল মাইন্ডস’কুমিল্লায় অস্ত্র হাতে ভিডিও ভাইরাল, ‘এসবিএস’ গ্রুপের ৪ সদস্য গ্রেপ্তারবনানী থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর আব্দুল হাফিজ গ্রেপ্তারঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তরচারজনের জায়গায় ৮: গাদাগাদি যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে ছুটে চলে অটোরিকশানেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়ার আহ্বান ইসরায়েলিদের
বিজ্ঞাপন

সাড়ে ৪ মাসের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন, বাধা নেই রাতযাপনে

নিজস্ব প্রতিবেদক৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
সাড়ে ৪ মাসের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন, বাধা নেই রাতযাপনে

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান সাংবাদিকদের বলেন, নভেম্বর এবং ফেব্রুয়ারি-মার্চে সেন্টমার্টিনে রাতযাপন নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা সংশোধন করা হয়েছে। নির্ধারিত পুরো সময়েই পর্যটকেরা দ্বীপে থাকতে পারবেন।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, গতবারের মতো এবারও পর্যটকদের ট্রাভেল পাস নিয়ে দ্বীপে যেতে হবে। এ জন্য কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ট্যুরিজম বোর্ডের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।

বহাল থাকছে যেসব বিধিনিষেধ

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আগের বছরের প্রজ্ঞাপনে আরোপিত বিধিনিষেধগুলো এবারও বহাল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও করা যাবে না।

এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ থাকবে।

অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

পর্যটকদের আগমন সামনে রেখে সেন্টমার্টিনের আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১১ পর্যটকের প্রাণহানির পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেন্টমার্টিনেও সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াবুল করিম বলেন, দ্বীপের কোনো হোটেল, রিসোর্ট বা রেস্তোরাঁয় আগুন লাগলে অনেক সময় বাড়িতে ব্যবহৃত পানির পাইপ দিয়ে পানি এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সহযোগিতা করেন। কিন্তু আগুন বড় আকার ধারণ করলে সীমিত সরঞ্জাম দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আরেক বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ বলেন, শুধু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার নির্দেশনা দিলেই পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। এসব যন্ত্র কার্যকর আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে নিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ, রান্নাঘরের অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি বহির্গমন পথ এবং প্রশিক্ষিত কর্মী নিশ্চিত করতে হবে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা হয়েছে। হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত দ্বীপে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কমান্ডার কামরুজ্জামান সুমন বলেন, তিনি সম্প্রতি টেকনাফে যোগ দিয়েছেন। সেন্টমার্টিনে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও প্রশিক্ষিত কর্মী রাখার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্বীপটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘ এক বছর পর পর্যটকদের জন্য দ্বীপে যাতায়াত ও রাতযাপনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। একসময় দ্বীপের অধিকাংশ মানুষের প্রধান পেশা ছিল মাছ ধরা ও কৃষিকাজ। তবে গত দুই দশকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে থাকায় অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও সেবামূলক কাজে যুক্ত হন।

পর্যটকদের যাতায়াতে বিধিনিষেধের কারণে গত এক বছরে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসায় স্থবিরতা দেখা দেয়। এবার নতুন সিদ্ধান্তে এসব ব্যবসা আবার সচল হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের আগমন সামনে রেখে দ্বীপের সব পেশার মানুষ কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সবাই নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করতে ব্যস্ত রয়েছেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। ১ নভেম্বর থেকে দৈনিক সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড, বিজিবি, নৌবাহিনী ও পুলিশ কাজ করছে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...