শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

দুই দফা ফিরেও রক্ষা হলো না বার্সেলোনার, শেষ মুহূর্তের ঝড়ে জিতল পিএসজি

নিজস্ব প্রতিবেদক২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ এএম
দুই দফা ফিরেও রক্ষা হলো না বার্সেলোনার, শেষ মুহূর্তের ঝড়ে জিতল পিএসজি

দুই দফায় পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত লড়াইয়ে ম্যাচে ফিরেছিল বার্সেলোনা। তবে শেষ দশ মিনিটের নাটকীয়তায় ম্যাচের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে দেয় প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে লুইস এনরিকের দল। এর মাধ্যমে চলতি মৌসুমে নিজেদের প্রথম পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেল হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। মর্যাদার এল ক্লাসিকোর আগে এমন হার কাতালানদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এলো।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের তৃতীয় রাউন্ডের এই ম্যাচে পিএসজির হয়ে স্কোরশিটে নাম লেখান দেজিরে দুয়ে, লুকাস হার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া ও ফাবিয়ান রুইজ। বিপরীতে বার্সেলোনার হয়ে লক্ষ্যভেদ করেন জাভি এসপার্ট ও লামিনে ইয়ামাল।

প্রথমার্ধে চোটের ধাক্কা ও দুয়ের গোল

ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই বার্সার রক্ষণভাগে তীব্র চাপ তৈরি করে পিএসজি। দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন খভিচা কাভারাসখেলিয়া, তবে তার দূরপাল্লার জোরালো শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর বার্সেলোনাও পাল্টা আক্রমণ সাজায়। রাফিনিয়ার নেওয়া একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন পিএসজির গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ।

প্রথমার্ধের বেশ খানিকটা সময় কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল বার্সেলোনা। তবে গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়ার দুর্দান্ত কয়েকটি সেভে ম্যাচে টিকে থাকে দলটি। খেলার মধ্যেই দুই শিবিরেই আঘাত হানে চোট। ম্যাচের ২০তম মিনিটে উসমান দেম্বেলের চোটের কারণে পিএসজি মাঠে নামায় ফেরান তোরেসকে। সাত মিনিট পর চোট নিয়ে বার্সেলোনার মাঠ ছাড়েন দানি ওলমো, তার জায়গায় নামেন ফেরমিন লোপেজ।

ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে গোলের ডেডলক ভাঙে স্বাগতিকেরা। নিজেদের অর্ধে লামিনে ইয়ামাল বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে হেডে সেটি বাড়ান জোয়াও নেভেস। বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গার্সিয়াকে পরাস্ত করে পিএসজিকে এগিয়ে নেন দেজিরে দুয়ে। এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় প্যারিসের ক্লাবটি।

ইয়ামালের লড়াই ও শেষ মুহূর্তের ছন্দপতন

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও বার্সাকে চাপে রাখে পিএসজি। তবে ৫৫তম মিনিটে দারুণ এক প্রতি-আক্রমণ থেকে সমতা টানে সফরকারীরা। নিজের অর্ধ থেকে লোপেজের উদ্দেশে বল বাড়িয়ে ক্ষিপ্র গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন তরুণ ডিফেন্ডার জাভি এসপার্ট। লোপেজের মাপা থ্রু বল ধরে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।

সমতায় ফেরার পর বার্সেলোনা যখন গুছিয়ে উঠছিল, তখন চোটের কারণে অধিনায়ক মারকিনিওস ও কাভারাসখেলিয়াকে মাঠ থেকে তুলে নিতে বাধ্য হয় পিএসজি। তবে ৭২তম মিনিটে আবারও লিড নেয় এনরিকের দল। দেজিরে দুয়ের কর্নার থেকে বল পেয়ে অ্যান্থনি গর্ডনের ওপর দিয়ে দারুণ এক হেডে জালের ওপরের কোণে বল জড়ান লুকাস হার্নান্দেজ।

পিএসজির সেই উৎসব স্থায়ী হয়েছিল মাত্র সাত মিনিট। ৭৯তম মিনিটে উঁচু করে বাড়ানো বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন স্বাগতিক ডিফেন্ডার ওয়ারেন জাইরে-এমেরি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সে ঢুকে বেশ কঠিন কোণ থেকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান ইয়ামাল। স্কোরলাইন তখন ২-২। তবে ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে ভিতিনিয়া ও ফাবিয়ান রুইজের লক্ষ্যভেদে বার্সেলোনাকে আর কোনো সুযোগ না দিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিএসজি।

খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...