রোনালদোকে ছাড়াই আল নাসরের গোলবন্যা

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নেই, তাতে কী! উজবেকিস্তানে গিয়ে প্রতিপক্ষের জালে ছয়বার বল পাঠিয়েছে আল নাসর। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটে পাখতাকোরকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সৌদি আরবের ক্লাবটি। ম্যাচের নায়ক জোয়াও ফেলিক্স। জোড়া গোল করার পাশাপাশি আরও দুটি গোলে সহায়তা করেছেন পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ড। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) উজবেকিস্তানের তাসখন্দে পাখতাকোর সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আল নাসর। ম্যাচের প্রথম ৩২ মিনিটেই তিন গোল করে স্বাগতিকদের কোণঠাসা করে ফেলে তারা। দ্বিতীয়ার্ধেও সেই দাপট ধরে রেখে বড় জয় নিশ্চিত করে আনগে পোস্তেকোগ্লুর দল।
আল নাসরের জয়ের ভিত গড়ে দেন ফেলিক্স। ১৫ মিনিটে তার পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন আবদুল্লাহ আল হামদান। দুই মিনিট পর নিজেই গোলের খাতায় নাম লেখান ফেলিক্স। এরপর ৩২ মিনিটে সাদিও মানের সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সাবেক আতলেটিকো মাদ্রিদ তারকা। মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে এক অ্যাসিস্ট ও দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় আল নাসর।
অবশ্য তিন গোল হজম করার আগেই একবার বল জালে পাঠিয়েছিল পাখতাকোর। ২৬ মিনিটে আকমাল মোজগোভয়ের গোলটি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় বাতিল হয়। পরে ৩৬ মিনিটে ফ্লামারিয়নের গোলে ব্যবধান কমায় স্বাগতিকরা। তবে প্রথমার্ধ শেষ হয় আল নাসরের ৩-১ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমায়নি সৌদি ক্লাবটি। ৫৩ মিনিটে ফেলিক্সের অ্যাসিস্ট থেকে দলের চতুর্থ গোল করেন আবদুলেলাহ আল আমরি। এতে ম্যাচে ফেলিক্সের সরাসরি গোল-অবদান দাড়ায় চারটিতে। নয় মিনিট পর সাদিও মানের পাস থেকে পঞ্চম গোলটি করেন আবদুলরহমান ঘারিব।
পাঁচ গোল হজমের পর ৭৫ মিনিটে দোস্তনবেক খামদামভের গোলে ব্যবধান কিছুটা কমায় পাখতাকোর। কিন্তু চার মিনিট পরই আঞ্জেলোর গোলে আবারও ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় আল নাসর। আবদুল্লাহ আল হামদানের সহায়তায় করা সেই গোলেই ৬-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় অতিথিদের।
ফেলিক্সের পাশাপাশি দুর্দান্ত খেলেছেন সেনেগাল তারকা সাদিও মানেও। আল নাসরের দুটি গোলে সরাসরি সহায়তা করেছেন তিনি। অন্যদিকে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট নিয়ে ম্যাচ শেষ করেছেন আল হামদান। তবে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন ফেলিক্স। ৬৮ মিনিটে মাঠ ছাড়ার আগেই দুই গোল ও দুই অ্যাসিস্টে দলের বড় জয়ের প্রধান কারিগর হয়ে ওঠেন ২৬ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকা।
ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ফেলিক্স। তিনি বলেন, ‘আমরা দারুণ কাজ করেছি। ম্যাচটি সহজ ছিল না, কিন্তু আমরা সেটিকে সহজ করে তুলেছি। আমাদের মানসিকতা ছিল দুর্দান্ত। তাই এই জয়ে আমরা খুশি।’

