ইন্টারনেটের ৭০ শতাংশ সাইবার ঝুঁকিতে, এক দশক পর এআই দিয়ে ধরা পড়ল বড় ত্রুটি

ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটকে বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকির মুখে ফেলেছে এক দশক ধরে লুকিয়ে থাকা দুটি মারাত্মক ত্রুটি। এই নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। শিল্পকর্ম প্রদর্শনের পরিচিত মাধ্যম ডেভিয়্যান্টআর্টসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণের নোটিশ টানিয়ে বন্ধ রাখা হলেও এর নেপথ্যের কারণ নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো খোলাসা করে কিছু বলেনি।
প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের গবেষকদের অনুসন্ধানে এই ত্রুটি দুটি ধরা পড়ে। প্রোগ্রামিং ভাষার ফাঁকফোকর শনাক্ত এবং তা সমাধানের উদ্দেশ্যে ওপেনএআইয়ের পরিচালিত ‘প্যাচ দ্য প্ল্যানেট’ কর্মসূচিতে যুক্ত ছিল ক্যালিফ ও পিএইচপি ফাউন্ডেশন। এই উদ্যোগের অধীনেই গবেষকদের ওপেনএআইয়ের আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
এক দশক ধরে অজানা ছিল ত্রুটি
ওপেনএআই এক ব্লগ বার্তায় মন্তব্য করেছে, এই আবিষ্কার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও বড় সাইবার নিরাপত্তা সংকটগুলোর একটি। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব এক গবেষকও প্রায় একই সময়ে স্বাধীনভাবে এই ত্রুটির সন্ধান পেয়েছিলেন। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রোগ্রামিং ভাষায় এই দুর্বলতা বিদ্যমান থাকলেও এতদিন তা কারও নজরে আসেনি। চলতি বছরের আগস্ট মাসে কয়েক সপ্তাহ ধরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এআই টুল ব্যবহারের পর অবশেষে তা উন্মোচিত হয়।
গবেষক প্রতিষ্ঠান উইজ তাদের ব্লগে জানায়, পুরো কাজটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, ‘এই প্রক্রিয়াকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে উন্নত এআই মডেলগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর সাহায্যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক অ্যাপ্লিকেশনের জন্য কার্যকর সাইবার আক্রমণ-পদ্ধতি তৈরি ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা সম্ভব হয়েছে।’
তথ্য ফাঁস ও আগাম ঘোষণা
উইজ ধারণা করছে, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট এই দুর্বলতার কারণে বিপদের মুখে রয়েছে। তবে তাদের এই পূর্বাভাসের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি চুয়াডাঙ্গা ডট নেট।
পিএইচপি ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ছিল চলতি মাসের শেষের দিকে ত্রুটির বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরে একটি স্থায়ী সমাধান বা ‘প্যাচ’ ছাড়া হবে। কিন্তু মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ত্রুটি সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়ে পড়ে। ফলে পূর্বপরিকল্পিত সময়ের আগেই তড়িঘড়ি করে ত্রুটি এবং এর সম্ভাব্য ভয়াবহ প্রভাব সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় পিএইচপি ফাউন্ডেশন।

