মানুষের নীতি বলে কিছু নেই—মানবজাতি নিয়ে মত দিল ১৪টি এআই মডেল

উদাসীনভাবে উপকার করা ব্যক্তির গুরুত্ব কম। উদ্দেশ্যকে ফলাফলের চেয়ে বেশি মূল্য দেওয়ার প্রবণতা অনেক জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিমি কে৩.১ প্রো বলেছে, ভুল পথে পরিচালিত সহমর্মিতাও নিষ্ঠুরতার বড় উৎস হতে পারে—প্রিয়জনকে রক্ষার নামে মানুষ নিষ্ঠুরতাকেও ন্যায়সংগত মনে করে।
তবে সব মডেলই হতাশাবাদী ছিল না। ক্লদ ওপাস ৫.৫-এর মতে, মানুষ নিজেদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সদয়। মানুষের প্রকৃত ত্রুটির চেয়ে পারস্পরিক নেতিবাচক ধারণা অনেক সময় বেশি ক্ষতি করে।
মানবজাতি সম্পর্কে ছয়টি ইমেজ-জেনারেশন মডেলকেও একই ধরনের প্রশ্ন করা হয়। মডেলকমপেয়ারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, তৈরি করা ১২টি ছবির মধ্যে ১০ টিতে মানুষকে মুঠোফোনে আসক্ত ভোক্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে, যারা পৃথিবীর সম্পদ নিঃশেষ করছে। বাকি দুটি ছবিতে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক সতর্ক করেছেন, এআইয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অনেক মানুষ এখনো বাস্তবতা স্বীকার করতে চাইছেন না। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, এআইয়ের কারণে পুরো মানবজাতির ধ্বংসের ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর মতে, প্রযুক্তিটি সম্মিলিতভাবে মানুষের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এআইয়ের অন্যতম পথিকৃৎ ও নোবেলজয়ী জিওফ্রে হিন্টনও সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে যন্ত্র মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
হিন্টনের ভাষ্যমতে, মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান প্রযুক্তি তৈরির পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি। এ অবস্থায় মানুষের সবচেয়ে বড় ভুল হবে, উন্নত এআইয়ের সঙ্গে কীভাবে সহাবস্থান করা যায়, তা নিয়ে গবেষণায় যথেষ্ট বিনিয়োগ না করা।

