এআইয়ের তৈরি সৃজনশীল কাজের মালিক কে

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম কনটেন্ট
সাধারণভাবে বলা যায়, মেটার যেকোনো প্ল্যাটফর্মে সৃজনশীল কিছু প্রকাশ করা মানে তার কপিরাইট মেটার হয়ে যাবে না, তা আপনারই থাকবে। তবে প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলি এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি কনটেন্ট হোস্ট, প্রদর্শন কিংবা নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত কাজে ব্যবহারের লাইসেন্স পেতে পারে। সেই লাইসেন্স এবং এআই প্রশিক্ষণের অনুমতি এক নয়।
সাম্প্রতিক বিতর্ক
এআইয়ের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে বড় বিতর্ক। একটি ছবি তৈরির মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে লাখ লাখ ছবি বিশ্লেষণ করা হতে পারে। একইভাবে ভাষাভিত্তিক মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে বই, সংবাদপত্র, গবেষণাপত্র, ব্লগ ও অনলাইন আলোচনার বিপুল সংগ্রহ। কিন্তু এসব কনটেন্টের অনেকগুলোই কপিরাইট সুরক্ষিত। মূল স্রষ্টার অনুমতি ছাড়া প্রশিক্ষণের কাজে সেসব ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে।
ছবি, গান ও সাহিত্য—বিতর্কের ধরন আলাদা
এআইয়ের তৈরি সব ধরনের শিল্পকর্মের কপিরাইট নিয়ে একই ধরনের সমস্যা তৈরি হয় না।
এআই ফটোগ্রাফি:বাস্তব কোনো আলোকচিত্রীর ছবির মতো করে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করা হলে প্রশ্ন ওঠে, মূল ছবির বৈশিষ্ট্য বা স্বতন্ত্র উপাদান কতটা ব্যবহার করা হয়েছে। আবার কোনো বাস্তব ব্যক্তির মুখ বা পরিচয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলেও গোপনীয়তা ও ব্যক্তি স্বত্বের প্রশ্ন তৈরি হয়।
এআই সংগীত: এআই দিয়ে নতুন সুর, গান ও কণ্ঠ তৈরি করা যাচ্ছে। কিন্তু কোনো জীবিত শিল্পীর কণ্ঠ হুবহু নকল করে গান বানালে তাঁর কণ্ঠস্বরের অধিকার, পরিচিতি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রশ্ন উঠবে। গানের কথা, সুর এবং মূল রেকর্ডিংয়ের কপিরাইটও আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।
এআই সাহিত্য:উপন্যাস, কবিতা, সংবাদ প্রতিবেদন কিংবা গবেষণার খসড়া তৈরি করতে পারে এআই। কিন্তু কোনো লেখকের স্বতন্ত্র বাক্য, চরিত্র, কাহিনি বা প্রকাশভঙ্গি অননুমোদিতভাবে ব্যবহার করলে মৌলিকত্ব ও কপিরাইট লঙ্ঘনের প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
এআই চিত্রকলা:বিখ্যাত শিল্পীর আঁকার ধরন অনুকরণ করে ছবি তৈরি করা যায়। কিন্তু কোনো শিল্পীর স্টাইল বা সামগ্রিক নান্দনিকতা অনুকরণ করা এবং তাঁর নির্দিষ্ট শিল্পকর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নকল করলে কপিরাইট লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—কপিরাইট, ব্যক্তি স্বত্ব এবং কণ্ঠস্বর বা পরিচয়ের বাণিজ্যিক অধিকার এক জিনিস নয়। কোনো কাজ কপিরাইট লঙ্ঘন না করলেও বাস্তব মানুষের পরিচয় বা কণ্ঠস্বরের অননুমোদিত ব্যবহার অন্য আইনি সমস্যার জন্ম দিতে পারে।
তথ্যসূত্র:ইউএস কপিরাইট অফিস, গুগল, মেটা, বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০২৩

