রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

মক্কা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ: এক দেশে আক্রমণ বিবেচিত হবে সবার ওপর হামলা হিসেবে

নিজস্ব প্রতিবেদক২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
মক্কা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ: এক দেশে আক্রমণ বিবেচিত হবে সবার ওপর হামলা হিসেবে

আলোচিত মক্কা চুক্তির মূল নথির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ্যে এসেছে। তুর্কি, আরবি ও ইংরেজি—এই তিন ভাষায় চুক্তিটির মূল কপি সই হয়েছে। তিনটি ভাষার পাঠই প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সমমর্যাদা পাবে। তবে কোনো অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা নিয়ে অস্পষ্টতা বা মতভেদ দেখা দিলে ইংরেজি পাঠকেই চূড়ান্ত প্রাধান্য দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে।

চুক্তির পাঁচ অনুচ্ছেদে যা রয়েছে

প্রথম অনুচ্ছেদ: সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষা
চুক্তিভুক্ত পক্ষগুলো একে অন্যের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার অলঙ্ঘনীয়তা বজায় রাখতে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। কোনো দেশের ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্ব যদি কোনো দিক থেকে হুমকির মুখে পড়ে, তবে সেই বিপদ দূর করতে অংশীদার রাষ্ট্রগুলো তাদের হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করবে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: যৌথ প্রতিরক্ষা ও আত্মরক্ষা
কোনো এক পক্ষের ওপর বাইরের কোনো শক্তির সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা জোটভুক্ত সব পক্ষের ওপর আক্রমণ হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। অন্য কোনো রাষ্ট্র বা জোটের সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে আক্রান্ত দেশকে বাকিরা অবিলম্বে পূর্ণ সহযোগিতা দেবে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহায়তার জন্য নিজেদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর ধারায় উল্লিখিত বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার বাস্তবায়নে সহায়তার ধরন ও পরিধি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে ঠিক করা হবে। সদস্য দেশগুলো তাদের বিদ্যমান সক্ষমতা ও সম্পদের সীমার মধ্যে থেকে এই সহায়তা জোগাবে, যার মধ্যে প্রত্যক্ষ সামরিক শক্তি ও রসদও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক সহযোগিতা
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের লক্ষ্য বাস্তবায়নের স্বার্থে পক্ষগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক শিল্প ও নিরাপত্তা খাতে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করবে। এর আওতায় দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া বাড়ানো হবে এবং যৌথ সম্মতির ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: কৌশলগত পরামর্শ ও অভিন্ন অবস্থান
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দেশগুলো নিয়মিত পারস্পরিক আলোচনা চালাবে। নিজেদের মূল স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা অটুট রাখতে অভিন্ন পর্যালোচনার ভিত্তিতে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ধারাবাহিক সহায়তা দেবে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় একক কিংবা যৌথ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশগুলো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: সন্ত্রাসবাদ দমন
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়—এমন সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ দমনে আগের যৌথ প্রচেষ্টা আরও বাড়ানো হবে। মাঠপর্যায়ের সামরিক ও কৌশলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে দেশগুলো নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।

আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...