মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার অভিযোগ, জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল শিক্ষার্থী।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী। পরে সেখানে তারা প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
কুশপুত্তলিকায় ‘পাকিস্তানের দালাল’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী দেইল্যা রাজাকার’ লেখা ছিল।
কর্মসূচির সঞ্চালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু রায়হান কবির রাসেল বলেন, ‘রাজাকার একটি চেতনা, যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে থেকেও পাকিস্তানপন্থি অবস্থান টিকিয়ে রাখতে চায়। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারকে সংসদে বসানো হয়েছে। এর চেয়ে লজ্জাকর আর কিছু হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকারদের ছবি প্রদর্শিত হয়েছিল। তখন মনে করেছিলাম, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত নয় বলেই হয়তো এমন ঘটনা ঘটছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচিত নির্বাচিত সরকারের আমলেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। সরকারের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া অভিযোগ করেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে যথাযথভাবে গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠুভাবে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। এ ঘটনার পেছনে কারা বাধা সৃষ্টি করেছে, তা চিহ্নিত করার দাবি জানান তিনি।

