বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া, প্রমাণ পেল জাতিসংঘ

তদন্ত কমিশন এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার মোট ৪৮টি দেশের নাগরিকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান বা মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকার ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রতারণা, জবরদস্তি এবং মানবপাচারের প্রমাণ পেয়েছে।
এই চক্রের খপ্পরে পড়া ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তাদের বেশিরভাগই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সচেতনতার মাত্রা তুলনামূলক কম।
এই বাস্তবতাকে পুঁজি করে পাচারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করে। রাশিয়ায় সিকিউরিটি গার্ড, গাড়িচালক, মেকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান, কনস্ট্রাকশন শ্রমিক বা ওয়েল্ডারের মতো বেসামরিক চাকরিতে লোভনীয় বেতনের কথা বলা হয়।
কোথাও খেলাধুলা, কৃষি বা তথ্যপ্রযুক্তির মতো বিশেষ ক্ষেত্রের কাজের সুযোগ দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাসও দেওয়া হয়। তদন্ত কমিশন বলছে, প্রতারণার এই ফাঁদ এতটাই নিখুঁত ও বিশ্বাসযোগ্য হয় যে, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় পরিচিত মানুষ, এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা সরকার অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমেও প্রলুব্ধ হয়েছেন।
কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের ভুয়া অফার লেটার বা গ্যারান্টি পেপার দেওয়া হতো, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকত যে তাদের কোনো অবস্থাতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে বা সামরিক কার্যক্রমে পাঠানো হবে না।
তদন্ত কমিশন কিছু বাংলাদেশিকে দেওয়া বিজনেস ভিসার কপি পেয়েছে, যেটি রাশিয়ার বেসামরিক কোম্পানিতে কাজের কথা বলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পা রাখার পরেই তাদের সমস্ত চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। কেনিয়ার নাগরিকদের দুই সপ্তাহ থেকে দুই মাস মেয়াদী ট্যুরিস্ট ভিসার দেওয়ার তথ্য পেয়েছে কমিশন। তাদের কাজে জড়ানোর আইনগত সুযোগ নেই।
বাহরাইন, ব্রাজিল, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, তুরস্ক কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে বা কখনো কখনো নজরদারি এড়াতে সড়কপথে প্রতিবেশী দেশে নিয়ে সেখান থেকে বিমানে তাদের রাশিয়ায় জড়ো করা হতো। এজন্য দালালরা জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৮ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত কমিশন বা যাতায়াত খরচ আদায় করেছিল, যা পরবর্তীতে তাদের বেতন থেকে কেটে নেওয়ার চুক্তি ছিল।

