ইরানে আকস্মিক অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র, প্রস্তুত থাকতে বলল উপসাগরীয় দেশগুলোকে

অর্থনৈতিক চাপের কৌশল থেকে আবার সামরিক অভিযানের পথে যুক্তরাষ্ট্র?
ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু হলে তা হবে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল থেকে সরে আসার একটি বড় পদক্ষেপ। কঠোর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নৌ অবরোধের কারণে কয়েক মাস ধরে ইরানের তেল বিক্রি কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। দেশটির বিমান যোগাযোগের বড় একটি অংশ বন্ধ হয়ে গেছে এবং স্থলপথে বাণিজ্যও সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে আগে থেকেই গভীর সংকটে থাকা ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের ইরান কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ পরিচালক বেহনাম বেন তালেবলু বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের মতো কোনো ক্রমবর্ধমান হুমকিকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত, যতটা সম্ভব বিস্তারিত তথ্যসহ প্রকাশ্যে সেই প্রয়োজনীয়তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্যথায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই কৌশলেই অটল থাকা উচিত।’
অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, আরও হামলা চালানো হলেও ইরান সহজে আত্মসমর্পণ করবে না। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২০ হাজারের বেশি হামলা সহ্য করেছে ইরান। এরপরও দেশটি পারস্য উপসাগরে জাহাজে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, মার্কিন সেনা ও যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং আলোচনার টেবিলে কঠোর শর্ত তুলে ধরছে।
ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো, তারা এখনো ধরে নিচ্ছে যে ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা হামলা চালালে, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানলে কিংবা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হত্যা করলেও, কোনোভাবে দেশটির শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো সম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, আরও বোমা হামলা চালানো হলে ইরানের শাসকগোষ্ঠী বরং নিজেদের অবস্থানে আরও অনড় হতে পারে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি আরও বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে উঠতে পারে।

