রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
সিআইডির সাবেক প্রধানের গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক গুরুতর আহতকেশবপুরে ধানখেতের আইলের পাশের ড্রেনে দুই নারী-পুরুষের মরদেহচীন বিতর্কে মরিনহোর সমর্থন পেলেন এমবাপ্পেস্পেনে লুটপাটের আশঙ্কায় শপিং মল-দোকানের কাচ ঢেকে দিলেন ব্যবসায়ীরালংমার্চ থেকে ফেরা বাসচাপায় পথচারী নিহত, খাদে পড়ে আহত অর্ধশতইতিহাদে ব্রাইটনের ইতিহাস, টানা দ্বিতীয় হার সিটিরদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের অবদান অনস্বীকার্য: প্রধানমন্ত্রীবনানীতে ক্লাব নটরডেমিয়ান্সের বিশেষ স্বাস্থ্য সেমিনারদাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না: জামায়াত আমিরজামায়াতের লংমার্চ থেকে ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, নিহত ১
বিজ্ঞাপন

আল-আজহারের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির আশা শাইখ মাহমুদুল হাসানের

নিজস্ব প্রতিবেদক৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
আল-আজহারের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির আশা শাইখ মাহমুদুল হাসানের

মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় সফর করেছন আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি শাইখ মাহমুদুল হাসান।

তার সফরকে কেন্দ্র করে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোর মধ্যে ইলমি সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সফরকালে মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি কওমি শিক্ষার্থীদের সংগঠন আল-আজহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া তিনি হাদিসের ইজাযত দেওয়া ও নেওয়া এবং আল-আজহারের শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অংশ নেন।

সফরসংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ দুই দেশের ইসলামি শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও জ্ঞানভিত্তিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আল-আজহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সংবর্ধনা

মিশরে পৌঁছানোর পর শাইখ মাহমুদুল হাসানকে মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের কওমি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘আল-আজহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তিনি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজকদের এ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার এ যোগাযোগ প্রবাসে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষায় নিয়োজিত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সৌজন্য বিনিময় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আলেমদের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামি শিক্ষাবিদদের সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে সহায়ক হতে পারে।

হাদিসের ইজাযত দেওয়া ও নেওয়া

শাইখ মাহমুদুল হাসানের মিশর সফরের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে ছিল হাদিসের ইজাযত দেওয়া ও নেওয়া। সফরসংশ্লিষ্ট সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি এশীয় শিক্ষার্থীদের হাদিসের ইজাযত দেন। পাশাপাশি আল-আজহারের বিশিষ্ট শিক্ষক ড. আবদুল ফাত্তাহ আস-সুবহীর সঙ্গে তার ইজাযত বিনিময় হয়। এ সময় তিনি তাকে ইজাযত দেন এবং তার কাছ থেকেও ইজাযত নেন।

ইসলামি জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যে হাদিসের ইজাযত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর মাধ্যমে হাদিস পাঠ, বর্ণনা ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে জ্ঞানগত সংযোগ এবং সনদের ধারাবাহিকতা রক্ষার ঐতিহ্য বহন করা হয়। যুগে যুগে মুহাদ্দিস ও ইসলামি শিক্ষাবিদদের মধ্যে এ ধরনের ইজাযত বিনিময় জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

সে বিবেচনায় দুই শিক্ষাবিদের মধ্যে ইজাযত বিনিময়কে সফরের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ঐতিহ্যভিত্তিক ইসলামি জ্ঞানচর্চার ধারাবাহিকতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের আলেমদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্বও তুলে ধরে।

আল-আজহার ও বাংলাদেশের কওমি মাদরাসার মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা

মিশরে অবস্থানকালে শাইখ মাহমুদুল হাসান আল-আজহারের শিক্ষা ও কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সফরসংশ্লিষ্ট বর্ণনায় এ পরিদর্শনকে আল-আজহার এবং বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা গুলোর মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়েছে।

মিশরের আল-আজহার মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, হাদিসচর্চা এবং ইসলামি জ্ঞান বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

শিক্ষাপদ্ধতি, পাঠ্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে পার্থক্য থাকলেও ইসলামি জ্ঞানচর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

এ ধরনের যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হলে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী পর্যায়ে মতবিনিময় এবং ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানচর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দুই দেশের শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন।

তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তব ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতায় রূপ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ, পারস্পরিক আগ্রহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন। শাইখ মাহমুদুল হাসানের এ সফর সেই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও ভাবনার একটি উপলক্ষ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...