হুতিদের ঠেকাতে এবার জাতিসংঘের দারস্থ ‘দিশেহারা’ সৌদি জোট

বেসামরিক নাগরিকদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করায় সৃষ্ট এই মানবেতর পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণভাবে হুতিদেরই দায়ী করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও জোট সমর্থিত ইয়েমেন সরকার।
ইয়েমেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, হুতিদের দেশজুড়ে একের পর এক পাহাড়, মানুষের বাড়িঘর ও চলাচলের পথে ছদ্মবেশে মাইন লুকিয়ে রাখার কারণে ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে মাইনদূষিত দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। এসব অবিস্ফোরিত বিস্ফোরকের শিকার হয়ে প্রতিদিন নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক পথ সুরক্ষার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক এলাকাগুলো থেকে মাইন অপসারণ কার্যক্রম জোরদার এবং হতাহত পরিবারগুলোকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ইউএনডিপির প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে ইয়েমেনের সরকার।
এর আগে, ইরানের মাধ্যমে জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে হুতিদের ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তাব দেয় সৌদি আরব।
সরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান তেহরানে একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমানে করে এই বিপুল অর্থও নিয়ে যান। তবে হুতিরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কি না, তাও ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
তারও আগে, হুতিদের বিরুদ্ধে সংঘাতে যুক্ত হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায় সৌদি আরব। এ ব্যাপারে ইসরায়েলের সঙ্গেও যোগাযোগ করে উপসাগরীয় দেশটির নেতৃত্ব। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুবরাজ মোহাম্ম্দ বিন সালমানের সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
ট্রাম্প জানান, হুতিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি লোহিত সাগর কিংবা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে লক্ষ্যবস্তু করবে না। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিরুদ্ধে সংঘাতে লিপ্ত হতে পারবে না।

