শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
পারিবারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে স্ত্রী ও তাঁর ৬ স্বজনকে হত্যা ক্যাবচালকেরমাউন্ট এলব্রুস জয় শেষে জাতীয় পতাকা প্রত্যর্পণ করলেন পর্বতারোহী শাকিলসিমন্স যেন ক্রিকেটের ডুলি, স্পিনারকে বানালেন ওপেনারঅ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্স কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে আজিমপুরে সড়ক অবরোধইতালিতে দক্ষ কর্মীদের কাজের সুযোগ, গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশদুই পর্বে পাকিস্তানের রাইউইন্ড ইজতেমা চলছে৯-১০ জনকে নিয়ে হোটেলে ফারজানা, জ্ঞান ফেরার পর রনি জানলেন- ‘তাদের বিয়ে হয়েছে’স্বামীর মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ স্ত্রী, সেনাসদস্য তিতাসকে হারিয়ে শোকাহত গ্রামকুড়িগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রেরবাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই থামল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
বিজ্ঞাপন

যুদ্ধ বন্ধে ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার দাবি হুতির, সৌদির অস্বীকৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
যুদ্ধ বন্ধে ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার দাবি হুতির, সৌদির অস্বীকৃতি

ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধ করতে সৌদি আরবের কাছে ৫ হাজার ১০০ কোটি (৫১ বিলিয়ন) ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। একইসঙ্গে ইয়েমেনের বৈধ শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দিতেও রিয়াদের কাছে প্রস্তাব তুলেছে গোষ্ঠীটি। নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকিতে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও শহরগুলো ঝুঁকিতে পড়ায় রিয়াদ কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের এসব তথ্য নাকচ করে দিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদ বলছে, ইয়েমেনে ‘ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার বিদ্যমান’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের পর হুতিদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয় সৌদি আরব। সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনার সময় হুতিরা এসব দাবি জানায়।

এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে আরও আলোচনা হয়েছে। তবে যে কোনো সমঝোতায় কয়েক হাজার কোটি ডলারের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি থাকতে পারে। ইয়েমেনের রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণকারী হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের আলোচনায় আর্থিক ও রাজনৈতিক জটিলতার বিষয়টিও এতে উঠে এসেছে।

তবে হুথিদের সমর্থক একজন সাংবাদিক যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরবকে দেওয়া মন্তব্যে এসব দাবি নাকচ করেছেন। তার দাবি, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এবং সৌদি আরবের কাছে হুতিদের স্বীকৃতি চাওয়ার বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

হুতিদের ঘনিষ্ঠ সানাভিত্তিক সাংবাদিক হুসাইন আলবুখাইতি বলেন, ‘এই প্রতিবেদনগুলো মিথ্যা।’ তার অভিযোগ, সৌদি আরব হুতিদের অর্থের পেছনে ছুটছে বলে তুলে ধরতে এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ ইয়েমেনের জনগণের পরিবর্তে আন্দোলনটির জন্য চাওয়া হয়েছে, এমন ধারণা তৈরি করতে তথ্যটি ফাঁস করেছে।

আলবুখাইতি বলেন, সানার কর্তৃপক্ষ সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে সরাসরি এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৩ ট্রিলিয়ন ডলারে।

এই ক্ষতির মধ্যে অর্থনৈতিক উৎপাদন কমে যাওয়া এবং অবকাঠামো, শিল্প, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের ক্ষয়ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের এবং ব্যক্তিগত বাড়িঘরের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আলবুখাইতির মতে, বৃহত্তর অর্থনৈতিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে অর্থ পরিশোধের বিষয়টি আলাদাভাবে পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে পৃথক শর্ত প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, ‘অর্থ পরিশোধের পদ্ধতিতে নমনীয়তা থাকতে পারে। যেমন বার্ষিক ভিত্তিতে অথবা কয়েক বছর ধরে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ করা যেতে পারে। তবে তা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে না।’

মৃত্যু, আঘাত এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না বলেও জোর দেন আলবুখাইতি। তাঁর মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে সম্পত্তির মূল্যসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নথিপত্র প্রয়োজন হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে পুনর্গঠন কর্মসূচির মাধ্যমে এসব ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

সৌদির স্বীকৃতি চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আলবুখাইতি বলেন, হুতিরা ইয়েমেনের বৈধ কর্তৃপক্ষ হিসেবে সৌদি আরবের স্বীকৃতি চায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিদের প্রধান দাবি হলো ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়েমেনি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়াও রয়েছে।

আলবুখাইতি বলেন, ‘তারা কোনো পক্ষের স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষা করছে না। সৌদি আরবের উচিত ইয়েমেন ছেড়ে চলে যাওয়া। এরপর আমরা কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের সমস্যার সমাধান করব।’

সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া

রিয়াদের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ওই প্রতিবেদনকে ‘সুস্পষ্টভাবে অস্বীকার’ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি দাবি করেন, প্রতিবেদনটির ‘কোনো ভিত্তি নেই’ এবং তিনি এই দাবিগুলোকে সংবাদপত্রটির লেখক বা তাদের কথিত সূত্রের মনগড়া কাহিনী বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা, দেশটির জনগণের দুর্ভিক্ষে ভূমিকা রাখা এবং দেশকে এমন সব সংঘাত ও কর্মসূচিতে জড়িয়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন, যা এর স্বার্থের অনুকূল নয়।

ক্রিমলি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা এবং শান্তি প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করার অভিযোগও করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইয়েমেনে ‘ইতোমধ্যেই একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার রয়েছে’।

২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।

২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সংঘাত অনেকটা কমে আসে। ওই বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হলেও তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পথ তৈরি করে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ দেশব্যাপী যুদ্ধবিরতি এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি পক্ষগুলোর অঙ্গীকারের কথা জানায়। এ প্রক্রিয়ার আওতায় সরকারি খাতের কর্মীদের বেতন, তেল রপ্তানি, সড়ক যোগাযোগ এবং সানা বিমানবন্দর ও হুদায়দাহ বন্দরের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করার মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ৫১ বিলিয়ন ডলারের দাবির প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট হয়নি। এটি আনুষ্ঠানিক ক্ষতিপূরণের দাবি, আলোচনার প্রাথমিক অবস্থান, নাকি আলোচনায় উঠে আসা একাধিক অঙ্কের একটি, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার সঙ্গে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি কীভাবে যুক্ত হবে, সেটিও অস্পষ্ট।

আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...