এবার আক্রান্ত হলে ইউরোপজুড়ে ‘দাবানল’ সৃষ্টির হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ অনুসারে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হাতে এমন কিছু মাঝারি ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলো ইউক্রেনসহ পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের একাধিক ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম।
আইআরজিসির দূরপাল্লার কৌশলে প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে দুই ধাপের কঠিন জ্বালানিচালিত ‘সেজ্জিল’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। প্রায় ২৫ টন ওজন ও ১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ক্ষেপণাস্ত্রটির সর্বোচ্চ পাল্লা ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার এবং এটি ১ হাজার ৫০০ কেজি পর্যন্ত ভারী ওয়ারহেড বহনে সক্ষম বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি এই ক্ষেপণাস্ত্রের ‘ক্লাস্টার’ সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি মূল ওয়ারহেডের জায়গায় একাধিক ক্ষুদ্র ওয়ারহেড যুক্ত থাকায় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত ‘প্যাট্রিয়ট’-এর পক্ষে এসব ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
এ ছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বহরে রয়েছে তরল জ্বালানিচালিত ‘খোররামশাহর’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। আইআরআইএনএনের তথ্য অনুসারে, সাধারণ অবস্থায় এর পাল্লা ২ হাজার থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার হলেও হালকা মানের ওয়ারহেড ব্যবহার করা হলে তা প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও পৌঁছাতে পারে।
১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ কেজির একক বা ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম খোররামশাহর আঘাতের স্থানে চরম ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারদর্শী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ভৌগোলিক হিসাব অনুযায়ী দাবি করা হয়, ইরানের উত্তর বা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল (যেমন তাবরিজ) থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হলে ইউক্রেনের খারকিভ (১ হজার ৫৫০ কিমি), কিয়েভ (১ হাজার ৮৫০ কিমি) এবং লভিভ (২ হাজার ১৫০ কিমি) সহজেই এর আওতায় চলে আসে।
কিন্তু চার হাজার কিলোমিটার পাল্লার খোররামশাহরের মতো উন্নত সংকলন ব্যবহার করা হলে কেবল ইউক্রেনই নয়, ইউরোপ মহাদেশের বৃহৎ অংশই সরাসরি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যে পড়বে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের দাবি।

