শ্রমিকের মজুরি এক টাকা বাড়াতে হলেও আন্দোলন ছাড়া সম্ভব হয় না

প্রতিবছর কয়েক দফায় মজুরির আন্দোলন হয়। ৩০-৩৫ হাজার টাকার দাবির পক্ষে যে মাত্রার সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলন দরকার, তা হচ্ছে না কেন?
আমি আগেই বলেছি, আমাদের দেশে ভোটের অধিকারই থাকে না, গণতন্ত্রও থাকে না। ১৯৯০-এর পর মাফিয়া চক্র ও বুর্জোয়া দলগুলো ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন ও সংগঠনগুলো কুক্ষিগত করেছে। ফলে ট্রেড ইউনিয়ন করার গণতান্ত্রিক চর্চা এখানে নেই। আমরা কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করতে গেলে নানা বাধার মুখে পড়ি। লড়াই করে ইউনিয়ন আদায় করতে হয়, রেজিস্ট্রেশনও আদায় করতে হয়। উল্টো মালিকদের পকেট ট্রেড ইউনিয়ন সহজে রেজিস্ট্রেশন পায়। মালিকেরা যত বেশি কৌশল করবেন, দমন-পীড়ন করবেন, আন্দোলন তত স্বতঃস্ফূর্ত ও বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়বে।
গার্মেন্টস খাতের আয় প্রায় রেমিট্যান্সের কাছাকাছি বা তার চেয়েও বেশি, অথচ এই খাতের শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি বৈষম্য ও অমানবিক পরিস্থিতির শিকার। রাষ্ট্র কেন স্থায়ী সমাধানের দিকে যায় না? রাষ্ট্র কেন সবসময় মালিকপক্ষের থাকে?
এটা আমাদেরও প্রশ্ন। যে খাত বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় করছে, যার ওপর ভর করে অর্থনীতি টিকে আছে, সেই খাতের শ্রমিকদের তো রাষ্ট্রের মাথায় তুলে রাখার কথা। অথচ তাঁদের কোনো কিছুর নিশ্চয়তা নেই। কারখানায় কাজ করার জন্য যতটুকু পুষ্টি দরকার, ততটুকু খাবারও তাঁরা পান না। সন্তানকে স্কুলে পড়াতে পারেন না, বাধ্য হয়ে মাদ্রাসায় দেন, আর সেখানে শিশুরা ভয়ানক যৌন নিপীড়নসহ না ধরণের নিপীড়নের শিকার হয়। শ্রমিকের জীবনযাত্রা, সামাজিক নিরাপত্তা সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা, এসব নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার ও মালিকদের যেভাবে ভাবা দরকার, তা তারা কখনো ভাবেন না। মুনাফা ছাড়া শ্রমিকের স্বার্থ ও জীবনের কথা তাদের মাথায়ই আসে না। সেই কারণেই আন্দোলনের রূপও স্বতঃস্ফূর্ত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।
এবারের আন্দোলন সহিংসতার দিকে গেছে। এর সমাধান আনতে মালিকপক্ষ ও সরকারের কাছ থেকে আপনি কী ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন?
প্রথমত, শ্রমিকদের সামনে বিভিন্ন বাহিনী এবং সরকারি দলের অঙ্গ-সংগঠনগুলোকে ক্ষমতা প্রদর্শন করা বন্ধ করতে হবে। যাঁদের গ্রেপ্তার করেছেন, তাঁদের ছেড়ে দিন। যাঁদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন, তা প্রত্যাহার করুন। গার্মেন্ট সেক্টরসহ সব ন্যাশনাল ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করুন। এলাকাভিত্তিক ও কারখানাভিত্তিক শ্রমিকনেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করুন। সরকারের এত বড় প্রতিষ্ঠান আছে, এত ট্রেড ইউনিয়ন আছে, সবাই মিলে এটা করা সম্ভব। দ্রুত মজুরি বোর্ডের কাজ শুরু করুন। শ্রমিকেরা যে খুব দ্রুত মজুরি পেতে চান, সেটা উপলব্ধি করুন এবং এই বার্তা স্পষ্টভাবে গণমাধ্যম, বিভিন্ন সংগঠন ও আপনাদের বিভিন্ন বাহিনীর মাধ্যমে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে দিন।
সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আজকের পত্রিকা এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।

