কার্ব আর ফ্যাট কি আসলেই শত্রু? জানুন পুষ্টিবিজ্ঞানের বড় বড় মিথ

‘লো-ফ্যাট’ বা ‘ডায়েট’ ফুড মানেই নিরাপদ
সুপারমার্কেটের তাকে ‘লো-ফ্যাট’ বা ‘ফ্যাট-ফ্রি’ লেখা চকচকে প্যাকেজ দেখে অনেক সময় আমরা ভেবে বসি—এগুলো যত খুশি খাওয়া যায়, ওজন বাড়ার জো নেই! কিন্তু সাবধান, এই ‘অলৌকিক’ খাবারগুলোতে ফ্যাট কমানোর চক্করে প্রচুর পরিমাণে চিনি, স্টার্চ বা লবণ মেশানো হয়। ফলে এগুলোতে ক্যালোরির পরিমাণ সাধারণ খাবারের চেয়ে অনেক সময় বেশিই থাকে। তাই লেবেল না দেখে সরাসরি মাঝারি পরিমাণে আসল ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অনেক বেশি নিরাপদ।

সকালের খাবার দিনের সবচেয়ে জরুরি
ছোটবেলা থেকে আমরা শুনে আসছি, সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া মানেই বিশাল কোন অপরাধ। কিন্তু ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা আধুনিক জীবনধারার যুগে এসে এই ধারণাও অনেকটাই বদলে গেছে। সকালবেলা যদি আপনার খিদে না পায়, তবে জোর করে খাওয়ার কোনো মানে নেই। সবার শরীর এক নয়; তাই নিজের শরীরের সিগন্যাল শুনে যখন খিদে পাবে, তখনই পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত।
জিম আর ডায়েটের বাইরেও জীবন আছে
ওজন কমানোর জন্য ক্যালোরি ডেফিসিট বা পরিমিত খাওয়া জরুরি ঠিক। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনাকে না খেয়ে থাকতে হবে। অতিরিক্ত কড়াকড়ি বা ড্রাস্টিক ডায়েট শরীরের মেটাবলিজম কমিয়ে দেয় এবং হরমোনের বারোটা বাজায়। ফলে আপনি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত আচ্ছন্ন না হয়ে ‘ব্যাক টু বেসিকস’ বা সহজ জীবনযাত্রায় ফিরে যাওয়াটাই সবচেয়ে বড় সমাধান। ক্যালোরি নিয়ে সারাক্ষণ হিসাব কষে মাথা নষ্ট না করে, মন দিয়ে খাবার উপভোগ করুন, শরীরের সিগন্যাল শুনুন এবং হাসিখুশি থাকুন। কারণ জীবনটা শুধু ওজন মাপার যন্ত্রে সংখ্যা কমানোর জন্য নয়, বরং ভালোভাবে বাঁচার জন্য।
সূত্র:হেলথ লাইন, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউস অব হেলথ

