এক দিনের জকিগঞ্জ ভ্রমণ

তিন নদীর মোহনায় প্রকৃতির গান
শিতালং শাহর সমাধিস্থল থেকে পাঁচ-সাত মিনিট হাঁটলে পৌঁছানো যায় তিন নদীর মোহনায়। স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি তি-গাঙ্গা নামে সুপরিচিত। বারঠাকুরী ইউনিয়নের আমলশীদ গ্রামে অবস্থিত এই স্থান নদীপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে অনন্য।
ভারত থেকে প্রবাহিত বরাক নদ এসে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে বিভক্ত হয়েছে এখানে। এতে তৈরি হয়েছে অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য। নদীর বিস্তৃত জলরাশি, শীতল বাতাস আর নীল আকাশ। সব মিলিয়ে জায়গাটি মনোমুগ্ধকর।
মোহনার পাশে সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে রয়েছে ঐতিহাসিক বারঠাকুরী গায়েবি দিঘি। তবে কালের বিবর্তনে দিঘিটির আর দৃশ্যমান অস্তিত্ব নেই। সেখানে এখন বিস্তৃত কৃষিজমি।
কুশিয়ারার তীরে জকিগঞ্জ কাস্টম ঘাট
কুশিয়ারা নদীর তীরঘেঁষা এই জায়গা বেশ মনোরম। এখান থেকে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি ওপারে ভারতের করিমগঞ্জও দেখা যায়। নদীপথে নৌকায় মানুষজনের পারাপারের দৃশ্য চোখে পড়ে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় জায়গাটির রয়েছে আলাদা ভৌগোলিক গুরুত্ব।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগমুহূর্তে ঘাটে গিয়ে দেখলাম, শিশুরা ঘুড়ি ওড়াচ্ছে। দৃশ্যটি বেশ উপভোগ্য। ঘুড়ির নাটাই বাংলাদেশের মাটিতে আর ঘুড়ি উড়ছে ভারতের আকাশে! সীমান্তের দুই পাশের আকাশ ঘুড়ির সুতোয় বাঁধা। এমন দৃশ্য সহজে মন কেড়ে নেয়। স্মরণ করিয়ে দেয় দুরন্ত শৈশবকেও।
স্থানীয় মানুষজনের কাছেও জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেকে এখানে অবসর সময় কাটাতে আসেন—নদীর শান্ত পরিবেশ, খোলা আকাশ আর ওপারের ভূখণ্ডের দৃশ্য দেখতে। সব মিলিয়ে জকিগঞ্জ কাস্টম ঘাট হতে পারে বিকেলের সময় কাটানোর চমৎকার গন্তব্য।

