কর্মক্ষেত্রে কমনসেন্স ধরে রাখবেন যেভাবে

- এরপর দেখা গেল কোন একদিন প্রিন্টার থেকে প্রিন্ট আউট তুলে নিলেন, কিন্তু শেষ পেপার জ্যাম হয়ে আছে বা কালি ফুরিয়ে গেছে। দেখা গেল আপনার সেটা ঠিক করার কোনো তাড়া নেই। আপনি চলে গেলেন আর দায় চাপালেন পরেরজনের ঘাড়ে। এটা না করে সবকিছু চেক করে তারপর জায়গা ছাড়ুন।
- কর্মক্ষেত্রে সময়ের দিকে খেয়াল রাখা অনেক বেশি জরুরি। যে মিটিং ১৫ মিনিটে শেষ হওয়ার কথা, সেটা বিনা কারণে টেনে দুই ঘণ্টা লম্বা করে ফেলা উচিত নয়।
- সবচেয়ে অদ্ভুত হয় ধরুন, বস একটা মেইল পাঠিয়েছেন পুরো টিমকে। আপনি ভুলবশত রিপ্লাই অলে এমন একটা কমেন্ট লিখে বসলেন—যা শুধু আপনার বন্ধুর পড়ার কথা ছিল। কিংবা অফিস গসিপ গ্রুপের কথা লিখে ফেললেন অফিশিয়াল চ্যাট বক্সে। নতুন কর্মীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসেন, তাঁদের কাছে অফিসের এই লুকানো শিষ্টাচার বা কালচার একদমই অপরিচিত ঠেকতে পারে। অথচ পুরোনো বস বা কর্মীরা ধরে নেন, এগুলো তো জন্মসূত্রে সবারই জানা থাকার কথা।
- হালকা ঠান্ডা-কাশি বা হাঁচি হওয়া সত্ত্বেও পুরো অফিসে জীবাণু ছড়াতে ছড়াতে ঘুরে বেড়ান অনেকেই। ভাবটা এমন যেন দেখুন, আমি কত সিরিয়াস কর্মী। অথচ কমনসেন্স বলে, অসুস্থ হলে ঘরে থেকে বিশ্রাম নেওয়াই সবার জন্য মঙ্গলজনক।
- সহকর্মী হয়তো গভীর মনোযোগ দিয়ে একটি রিপোর্ট লিখছেন, আপনি হঠাৎই কোনো নক বা আগাম বার্তা ছাড়া তাঁর কাঁধের ওপর গিয়ে দাঁড়ালেন কিংবা মিটিং রুমে সোজা ঢুকে পড়লেন। সেই সহকর্মী যতই আপনার বন্ধুর মতো হোক না কেন অবশ্যই নক করে তারপরে রুমে ঢুকবেন।
- ধরুন পুরো টিম যখন ডেডলাইন মেলাতে ব্যস্ত। তাৎক্ষণিক আপনার কোন কাজ নেই। তখন আপনি কী করবেন? অনেকেই আছেন যারা এমন সময় ডেস্কে বসেই জোরে আওয়াজ দিয়ে পারিবারিক বাজার বা ব্যক্তিগত জটিলতা নিয়ে আধঘণ্টা গল্প সেরে ফেলছেন। ফোন করা বেশি জরুরি হলে অবশ্যই আলাদা জায়গায় গিয়ে কথা বলা উচিত।
তাহলে উপায় কী
কর্মক্ষেত্রের এই ভুল-বোঝাবুঝি ও একঘেয়েমি কাটাতে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জোর দেওয়া জরুরি:
- অনুমান করা বন্ধ করুন। বসরা মনে করেন কর্মীরা মন পড়ে ফেলবে, আর কর্মীরা ভাবেন বস নিজেই সব বুঝে নেবেন। কাজের প্রত্যাশা ও নিয়মগুলো পরিষ্কার করে দেওয়াটা এখানে সবচেয়ে জরুরি।
- ভুলকে শেখা নতুন সুযোগ হিসেবে দেখুন। কাউকে ভুল করার পর সবার সামনে ভর্ৎসনা না করে, মেন্টরিং বা গাইডের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। ভুল থেকে শেখার সংস্কৃতি থাকলে টিমের টেনশন অর্ধেক কমে যায়।
- অভিজ্ঞতা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সামঞ্জস্য আনুন। প্রযুক্তি থেকে শুরু করে অফিসের নিয়ম সবই বদলায়। তাই পুরোনো অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে বসে না থেকে নতুনদের শেখার এবং পুরোনোদেরও নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে।
যত যা-ই হোক, মনে রাখবেন কমনসেন্স কোনো জন্মগত বা রহস্যময় আকাশছোঁয়া গুণ নয়। এটি মূলত অভিজ্ঞতা, ভুল থেকে শিক্ষা আর পারস্পরিক যোগাযোগের এক সুন্দর ফসল। তাই কাজের জায়গায় সামান্য হিউমার, একটুখানি সহনশীলতা এবং কাজের প্রত্যাশাগুলো স্পষ্ট রাখলে সবকিছুই বেশ হাসিমুখে সামলে নেওয়া সম্ভব। আর সবশেষে বলে রাখি আজ ইউজ ইওর কমনসেন্স ডে। তাই আজ থেকেই এই চর্চাগুলো শুরু করতে পারেন।
সূত্র:ফিন্যান্সবাজ

