পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দাবি জোরালো হচ্ছে ইরানে, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনে চাপ

তেহরানের পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ঘাদেরি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে একসময় এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে অবস্থান ছিল সংখ্যালঘুদের। কিন্তু এখন সেটি সংখ্যাগরিষ্ঠের অবস্থানে পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তাদের যুক্তি হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হুমকি অব্যাহত থাকলে প্রতিরোধক্ষমতা প্রতিষ্ঠার পথে এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের আরেকটি সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা যখন বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা সামনে আনার পেছনেও কৌশল থাকতে পারে বলে মনে করেন ওয়াশিংটনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ডনের ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক ওমিদ মেমারিয়ান। তাঁর মতে, কাতার যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নিবিড় মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা রেজায়ির এই বিতর্কে যুক্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাপ দেওয়ার প্রচেষ্টা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘তারা এই কার্ডটি খেলছে। তাদের বার্তা হলো, আলোচনা ব্যর্থ হলে আমরা ভিন্ন পথে এগোব, আর তার জন্য আপনাদের বড় মূল্য দিতে হবে।’
বিশেষভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ইরানের জুমার নামাজের ইমামদের ক্রমবর্ধমানসংখ্যক এই দাবির পক্ষে কথা বলছেন। কার্যত তাঁরা প্রয়াত আয়াতুল্লাহর ফতোয়াকেই চ্যালেঞ্জ করছেন। সাবানি বলেন, ‘নিষেধের সেই সামাজিক ও ধর্মীয় বাধা আর নেই। এই পরিবর্তনের পক্ষে একটি ধর্মীয় ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, এর পর কি কৌশলগত বা রাজনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন আসবে?’

