হেমন্তেও বৈশাখী গরম: চুয়াডাঙ্গাসহ ২৬ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ, বৃষ্টির আভাস

কার্তিকের শেষভাগে এসে যেখানে শীতের আগমনী বার্তা পাওয়ার কথা, সেখানে উল্টো তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বড় একটি অঞ্চল। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের ২৬টি জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুরে, ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টির পর চলমান তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
২৬ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ জানান, খুলনা বিভাগের সব জেলাসহ দেশের মোট ২৬ জেলায় এখন তাপপ্রবাহ চলছে। আবহাওয়ার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এলাকায় থার্মোমিটারের পারদ ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে সেটিকে মৃদু তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।
মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন স্থানে রেকর্ড হওয়া তাপমাত্রার তথ্যে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকা ও টাঙ্গাইলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া সিলেটে ৩৭ দশমিক ৪, ফেনীতে ৩৭ দশমিক ২, আরিচায় ৩৭ এবং চাঁদপুরে ৩৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যান্য জেলার মধ্যে ময়মনসিংহে ৩৬ দশমিক ৮, বাঘাবাড়িতে ৩৬ দশমিক ৭, কুমিল্লায় ৩৬ দশমিক ৬, নেত্রকোনা, গোপালগঞ্জ, সীতাকুণ্ড, রাঙামাটি ও ভোলায় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। শ্রীমঙ্গল ও মোংলায় ৩৬ দশমিক ৪, কুমারখালীতে ৩৬ দশমিক ৩ এবং ঈশ্বরদী, যশোর ও বরিশালে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। মাদারীপুর, মাইজদীকোর্ট, খুলনা ও সাতক্ষীরায় পারদ উঠেছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
এর আগে গত মঙ্গলবারও ঢাকাসহ ১৪ জেলায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি বা তার ওপরে থাকলেও একটানা ২৪ ঘণ্টা না থাকায় সে সময় আনুষ্ঠানিকভাবে তাপপ্রবাহের ঘোষণা দেওয়া হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ খুলনা বিভাগের সব জেলা এবং চাঁদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ভোলা, সিলেট, মৌলভীবাজার, ফেনী ও ময়মনসিংহে এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে দেশের সাতটি বিভাগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার বার্তা তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। বুধবারও রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল পার হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে, যার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে সীতাকুণ্ডে ৩১ মিলিমিটার এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের গরম পরিস্থিতি নিয়ে আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি হলে তার পরিমাণ হয়তো খুব বেশি হবে না, তবে তা বর্তমান উত্তাপ কিছুটা কমিয়ে স্বস্তি ফেরাতে পারে।

